রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং-এ বড় ভুল করছেন না তো? যেখানে সেখানে টাকা রাখার আগে এই প্রতিবেদনটি অবশ্যই পড়ুন

অধিকাংশ মানুষই চাকরি জীবনের শেষ দিকে এসে অবসরের চিন্তা শুরু করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিই সবথেকে বড় ভুল। অবসরের সঠিক পরিকল্পনা শুরু হওয়া উচিত প্রথম বেতনের দিন থেকেই। সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা বা ‘ফিনান্সিয়াল প্ল্যানিং’ কীভাবে করবেন? রইল বিশেষজ্ঞের বিশেষ কিছু গাইডলাইন:

১. সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখবেন না (Asset Allocation):

আপনার সমস্ত পুঁজি কখনোই একটি মাত্র সম্পদ শ্রেণিতে (যেমন— শুধু সোনা বা শুধু ব্যাঙ্কে) রাখবেন না। আলাদা আলাদা এসেট ক্লাস অর্থাৎ ইক্যুইটি, ডেট, রিয়েল এস্টেট এবং সোনায় ভাগ করে বিনিয়োগ করুন। এতে ঝুঁকি কমে এবং সম্পদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ে।

২. ইমার্জেন্সি ফান্ড ও বিমা (Emergency Fund & Insurance):

অবসরের জন্য জমানো টাকা থেকে মাঝপথে উইথড্র করা মারাত্মক ভুল। তাই হঠাৎ প্রয়োজনে খরচের জন্য একটি আলাদা ‘ইমার্জেন্সি ফান্ড’ তৈরি রাখুন। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করুন যাতে বড় কোনো অসুখ আপনার সারাজীবনের সঞ্চয় গ্রাস না করে।

৩. অপ্রয়োজনীয় ঋণ বর্জন:

সম্পদ বৃদ্ধির পথে সবথেকে বড় বাধা হলো ঋণ। যতটা সম্ভব ঋণের বোঝা এড়িয়ে চলুন। ব্যক্তিগত বাজেট তৈরি করে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সেই বাড়তি টাকা সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করার অভ্যাস করুন।

৪. ট্যাক্স ও উত্তরাধিকার পরিকল্পনা:

ট্যাক্স ফাইলিং আর ট্যাক্স প্ল্যানিং এক নয়। বছরের শুরুতেই কর বাঁচানোর পরিকল্পনা করুন। পাশাপাশি, আপনার অবর্তমানে সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে বা কারা ভোগ করবেন, তা লিখিত রাখা অর্থাৎ উইল বা উত্তরাধিকার পরিকল্পনা করা জরুরি। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে ‘নমিনি’ আপডেট রাখতে ভুলবেন না।

৫. অন্যকে দেখে অনুকরণ নয়:

প্রত্যেকের আর্থিক পরিস্থিতি, বয়স এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা আলাদা। তাই আপনার পাশের বাড়ির কেউ কোথাও ইনভেস্ট করে লাভবান হয়েছে বলে আপনিও সেখানেই ঝাঁপ দেবেন না। প্রয়োজনে সেবি রেজিস্টার্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইসরের পরামর্শ নিন।