‘৩ বছরের মধ্যে মুছে যাবে এই লিগ!’ কার মৃত্যুঘণ্টা বাজালেন আইপিএল জনক ললিত মোদি?

ক্রিকেট বিশ্বে তিনি ‘গেম চেঞ্জার’। আইপিএলের মাধ্যমে আধুনিক ক্রিকেটের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছিলেন ললিত মোদি। সেই ললিত মোদিই এবার এক বড়সড় ভবিষ্যদ্বাণী করে শোরগোল ফেলে দিলেন। তাঁর নিশানায় ইংল্যান্ডের বিতর্কিত ক্রিকেট লিগ ‘দ্য হান্ড্রেড’। মাইকেল ভনের ‘দ্য ওভারল্যাপ ক্রিকেট’ অনুষ্ঠানে মোদি সাফ জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে এই লিগের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

কেন ১০০ বলের লিগের ‘মৃত্যু’ দেখছেন মোদি?

ললিত মোদির মতে, ইসিবি (ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড)-র এই প্রজেক্টটি বাণিজ্যিক ও ক্রিকেটীয়—উভয় দিক থেকেই একটি বড় ভুল। তাঁর প্রধান যুক্তিগুলি হলো:

  • বিভ্রান্তিকর ফরম্যাট: ১০০ বলের খেলা ক্রিকেটের ব্যাকরণ বদলে দেয়। মোদির দাবি, এটি শিশুদের কাছে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এই ফরম্যাটের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

  • অহংকারের ফল: ললিত মোদির অভিযোগ, স্রেফ আইপিএল-কে নকল করার অপবাদ এড়াতেই ইসিবি এই অদ্ভুত ফরম্যাট বাজারে এনেছে। এটি একটি ‘ইগো-ড্রাইভেন’ প্রজেক্ট যার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

  • বাণিজ্যিক ব্যর্থতা: আগস্ট মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে এই খেলা হয়। ফুটবল এবং ফর্মুলা ওয়ানের জনপ্রিয়তার মাঝে দর্শক আলাদা করে টাকা দিয়ে এই খেলা দেখতে আগ্রহী নয়। ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

১৮ হাজার কোটি টাকার অফার ফাঁস!

ইন্টারভিউতে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন মোদি। তিনি জানান, ইংল্যান্ডে প্রিমিয়ার লিগের আদলে একটি শক্তিশালী টি-টোয়েন্টি কাঠামো তৈরির জন্য তিনি ইসিবি-কে ২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮,৬৪৫ কোটি টাকা) দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসিবি মনে করেছিল ললিত মোদির পরিকল্পনা গ্রহণ করা মানেই আইপিএল-এর অনুকরণ করা হবে। এই ‘ভয়েই’ তারা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়।

বিকল্প সমাধান কী ছিল?

ললিত মোদির মতে, ইসিবি-র উচিত ছিল তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইটালিটি ব্লাস্ট’ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে ব্যক্তিগত মালিকানায় বা ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে ছেড়ে দেওয়া। ইংল্যান্ডের কাউন্টি কালচারের সাথে গ্ল্যামার ও বড় বিনিয়োগ যুক্ত করলে তা ১০০ বলের টুর্নামেন্টের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক হতো।

এডিটোরিয়াল নোট: ললিত মোদির ঠোঁটকাটা স্বভাব সর্বজনবিদিত। তবে তাঁর ক্রিকেটীয় মস্তিষ্ককে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। ইংল্যান্ডের জেদ বনাম ললিত মোদির ভবিষ্যদ্বাণী—আগামী তিন বছরে ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর ভাগ্যে কী ঘটে, সেটাই এখন দেখার।