শুভেন্দুর গড়ে অভিষেকের গর্জন! ‘বেলা ১টা বাজলেই ডিজে বাজবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরে’, কড়া হুঁশিয়ারি তৃণমূল সেনাপতির

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে দাঁড়িয়েই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ভগবানপুর ও পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে জোড়া সভা করেন তিনি। নির্বাচনী লড়াইয়ের শেষ ল্যাপে এসে অভিষেকের এই সভা কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

‘বেলা একটা বাজলেই ডিজে বাজবে’:

ভোট গণনার দিনের আত্মবিশ্বাস উসকে দিয়ে অভিষেক সভামঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন:

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোন, এবার আমার জেদ ৪ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। বেলা একটা বাজলেই ডিজে বাজবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা যে ভাষা বোঝে, অভিষেক সেই ভাষাতেই জবাব দিতে জানে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতৃত্বের উদ্দেশেই ছোঁড়া।

পূর্ব মেদিনীপুরের সমীকরণ ও চ্যালেঞ্জ:

অভিষেকের এই সফরের নেপথ্যে রয়েছে এক কঠিন রাজনৈতিক লড়াই।

  • ২০২১-এর প্রেক্ষাপট: জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জিতেছিল তৃণমূল। পটাশপুরে তৃণমূল জিতলেও ভগবানপুর ছিল বিজেপির দখলে।

  • ২০২৪-এর লোকসভার প্রভাব: লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে জেলার ১৪টি বিধানসভা আসনেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। এই হারানো জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এদিন ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিষেক। কর্মীদের চাঙ্গা করতে তিনি বলেন, এই মাটি বশ্যতা মানে না এবং কোনওদিন “গদ্দারদের” সমর্থন করেনি।

বক্তৃতার মূল পয়েন্টগুলো:

  • মেরুদণ্ড বিক্রির লড়াই: অভিষেক দাবি করেন, মেদিনীপুরের মানুষ মেরুদণ্ড বিক্রি করেন না।

  • মানুষের উচ্ছ্বাস: ভগবানপুরের জনজোয়ার দেখে তিনি দাবি করেন, মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে মুখিয়ে আছেন।

  • জবাব দেওয়ার বার্তা: কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও বিরোধী দলনেতার আক্রমণের পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য ৪ তারিখের ফলাফলের দিকে আঙুল তোলেন তিনি।

এডিটোরিয়াল নোট: ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে পিছিয়ে থাকলেও, বিধানসভা উপনির্বাচন বা পরবর্তী নির্বাচনী লড়াইতে তৃণমূল যে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না, অভিষেকের এদিনের সুর থেকেই তা পরিষ্কার। ৪ মে’র ফলাফলই বলবে মেদিনীপুরের ডিজে কার সুরে বাজবে।