ভোটের মুখে পকেটে কত টাকা নিয়ে বেরোলে পুলিশ ধরবে না? জানুন কমিশনের নিয়ম

রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই দিকে দিকে শুরু হয়েছে পুলিশের নাকা চেকিং। গাড়ি হোক বা বাইক— যে কোনো মুহূর্তে তল্লাশির মুখে পড়তে পারেন আপনি। এই সময় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সঙ্গে নিয়ে ঘুরলে পড়তে পারেন মহাবিপদে। নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি (MCC) চলাকালীন আপনার কষ্টের টাকা যেন বাজেয়াপ্ত না হয়, তার জন্য কিছু নিয়ম জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
নগদ টাকা রাখার কি কোনো আইনি সীমা আছে? আইনত কোনো ব্যক্তি কত টাকা সঙ্গে রাখবেন, তার কোনো নির্দিষ্ট উর্ধ্বসীমা নেই। তবে মনে রাখবেন, নির্বাচন কমিশন ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য টাকার অপব্যবহার রুখতে কড়া নজরদারি চালায়। তাই ৫০,০০০ টাকার বেশি নগদ সাথে থাকলে আপনাকে উপযুক্ত নথিপত্র দেখাতে হতে পারে।
কখন বাজেয়াপ্ত হতে পারে আপনার টাকা? যদি ফ্লাইং স্কোয়াড বা স্ট্যাটিক সার্ভেইল্যান্স টিমের তল্লাশিতে আপনার কাছে বিপুল নগদ পাওয়া যায় এবং আপনি সেই টাকার উৎস (Source) ও উদ্দেশ্য (Purpose) প্রমাণ করতে না পারেন, তবে সেই টাকা সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হবে।
সাথে কী কী নথিপত্র রাখা বাধ্যতামূলক? ঝামেলা এড়াতে বড় অংকের নগদ বহনের সময় নিচের নথিপত্রগুলি অবশ্যই সাথে রাখুন:
-
আধার বা প্যান কার্ড: বড় অংকের লেনদেনের জন্য পরিচয়পত্র মাস্ট।
-
ব্যাঙ্ক স্লিপ: টাকা যদি ব্যাঙ্ক থেকে তোলা হয়, তবে তার উইথড্রয়াল স্লিপ বা পাসবইয়ের ফটোকপি।
-
ট্রেড লাইসেন্স বা ইনভয়েস: যদি ব্যবসার প্রয়োজনে টাকা নিয়ে যান, তবে তার বিল বা ইনভয়েস।
-
হাসপাতাল বা বিয়ের কার্ড: আপদকালীন চিকিৎসা বা অনুষ্ঠানের কেনাকাটার জন্য টাকা হলে তার প্রমাণপত্র।
১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে কী হবে? বাজেয়াপ্ত টাকার পরিমাণ যদি ১০ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তবে নির্বাচন কমিশন সেই তথ্য সরাসরি আয়কর বিভাগের (Income Tax Department) কাছে পাঠিয়ে দেয়। সে ক্ষেত্রে আপনাকে ইনকাম ট্যাক্সের দপ্তরে গিয়ে টাকার হিসাব দিতে হবে।
টাকা ফেরত পাওয়ার উপায় কী? যদি আপনার টাকা ভুলবশত বা সন্দেহবশত বাজেয়াপ্ত করা হয়, তবে চিন্তার কিছু নেই। জেলা স্তরে একটি অভিযোগ কমিটি (Grievance Committee) থাকে। সেখানে সঠিক নথিপত্র এবং প্রমাণ দাখিল করলে এবং সেই টাকার সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে প্রমাণিত হলে, আপনার টাকা আপনাকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।