Google-এর ‘ন্যানো ব্যানানা’ অদ্ভুতুরে নামটি কী করে এল? জেনেনিন আসল রহস্য?

প্রযুক্তির বাজারে কোনো পণ্যের নাম রাখা অনেকটা ‘ভাগ্যের খেলা’র মতো। কেউ মাসের পর মাস গবেষণা করে গাম্ভীর্যপূর্ণ নাম রাখে, আবার কেউ হুট করে টুপি থেকে নাম তুলে আনে। গুগলের নতুন এআই ইমেজ জেনারেটর ‘ন্যানো ব্যানানা’ (Nano Banana)-র ক্ষেত্রে ঘটেছে দ্বিতীয়টি। অদ্ভুত ও মজার এই নামটি এখন ইন্টারনেটে রীতিমতো ঝড় তুলেছে।

যেভাবে এল ‘ন্যানো ব্যানানা’

কারিগরি নথিতে এই টুলের অফিশিয়াল নাম ‘জেমিনাই ৩ প্রো ইমেজ প্রিভিউ’। কিন্তু এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘ন্যানো ব্যানানা’ নামে। এর নেপথ্যে রয়েছেন গুগলের প্রোডাক্ট ম্যানেজার নয়না রাইসিংঘানি। ‘এরিনা ডট এআই’ প্ল্যাটফর্মে যখন গোপনে এই মডেলটির পরীক্ষা চলছিল, তখন হুট করে একটি কোডনেইমের প্রয়োজন পড়ে। নয়না তার নিজের দুটি ডাকনাম ‘ন্যানো’ এবং ‘ব্যানানা’ জুড়ে দিয়ে নাম রাখেন ‘ন্যানো ব্যানানা’।

গোপন পরীক্ষা ও ভাইরাল আতঙ্ক

২০২৫ সালের ১২ আগস্ট টুলটি প্রথম আপলোড করা হয়। এর অসাধারণ ছবি তৈরির ক্ষমতা দেখে নেটিজেনরা চমকে যান। কয়েকদিন জল্পনা চলার পর গুগলের কর্মকর্তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কলা (Banana) ইমোজি পোস্ট করতে শুরু করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। ২৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের পর এটি জনপ্রিয়তায় চ্যাটজিপিটিকেও পেছনে ফেলে দেয়।

প্রযুক্তির জগতে ফলের দাপট

নামের ক্ষেত্রে ফলের ব্যবহার টেক দুনিয়ায় নতুন নয়। অ্যাপল, ব্ল্যাকবেরি বা র‍্যাস্পবেরি পাই-এর পথ ধরে এখন এআই কোম্পানিগুলোও ফলের নাম বেছে নিচ্ছে।

  • ওপেনএআই: তাদের ‘ও১’ মডেলের গোপন নাম রেখেছিল ‘স্ট্রবেরি’

  • মেটা: বর্তমানে কাজ করছে ‘অ্যাভোকাডো’ কোডনেইমের এক মডেল নিয়ে।

  • গুগল: ‘ন্যানো ব্যানানা’ দিয়ে বাজিমাত করেছে।

কেন সফল এই নাম?

বড় কোম্পানিগুলো একটি ব্র্যান্ড নাম জনপ্রিয় করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে। কিন্তু গুগলের ক্ষেত্রে ভাগ্য আর হিউমার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। কোনো গালভরা কঠিন নামের বদলে ‘ন্যানো ব্যানানা’র মতো সহজ ও মজাদার নাম মানুষের মনে দ্রুত গেঁথে গেছে। গুগলও কোনো গতানুগতিক নাম দিয়ে এই মজার নামটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা না করে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে।

প্রযুক্তি কেবল জটিল কোডিং নয়, মাঝে মাঝে যে হাস্যরসের মাধ্যমেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া যায়, ‘ন্যানো ব্যানানা’ তার এক অনন্য উদাহরণ।