“জ্বলল নয়ডা, ভাঙল ৮০ কারখানা!”-৫ দিন ধরে কী করছিল যোগী রাজ্যের পুলিশ?

সাজানো গোছানো হাই-টেক সিটি নয়ডা সোমবার কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। গত পাঁচ দিন ধরে যে ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল, সোমবার তা রূপ নিল এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের। ৮০টিরও বেশি কারখানায় ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ৩ ঘণ্টা শহর স্তব্ধ— এই সবের পেছনে উঠে আসছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের এক বিরাট ব্যর্থতার ছবি। প্রশ্ন উঠছে, টানা চার দিন বিক্ষোভের সংকেত পেয়েও কেন ‘ঘুম’ ভাঙল না পুলিশের?

৪ দিনের সতর্কবার্তা ও পুলিশের নীরবতা: ঘটনাটি কোনো আকস্মিক বিস্ফোরণ ছিল না। ৯ এপ্রিল থেকেই নয়ডার শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। ১০ এপ্রিল খোদ প্রশাসন ট্র্যাফিক ডাইভারশন করেছিল, যার অর্থ— তারা জানত বড় কিছু ঘটতে চলেছে। তা সত্ত্বেও সোমবার যখন হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নামলেন, তখন অনেক জায়গায় হাতেগোনা কয়েকজন পুলিশকর্মী কেবল দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন।

গোয়েন্দা ব্যর্থতা না কি চরম গাফিলতি? নয়ডা পুলিশের লোকাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (LIU) কাজ ছিল এই মুভমেন্টের ওপর নজর রাখা। হাজার হাজার শ্রমিক পাঁচ দিন ধরে জমায়েত করলেও কেন সঠিক রিপোর্ট পৌঁছাল না ওপরতলায়? আর যদি রিপোর্ট গিয়েও থাকে, তবে কেন অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হলো না? সেক্টর ৫৯, ৬২, ৬৩ এবং ফেজ-২ এলাকার ভয়ংকর হিংসা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে প্রশাসনের অকর্মণ্যতা।

তাণ্ডবের পরেই টনক নড়ল সরকারের: সোমবারের সেই নৈরাজ্যের পরেই নড়েচড়ে বসে যোগী সরকার। শ্রমিকদের শান্ত করতে ওই রাতেই তড়িঘড়ি ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এই নয়া বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। সরকার একে ‘তাৎক্ষণিক সমাধান’ বললেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— এই সিদ্ধান্ত কি কয়েক দিন আগে নেওয়া যেত না? তবে কি ভাঙচুর আর আগুন না লাগালে টনক নড়ত না প্রশাসনের?

বর্তমান পরিস্থিতি: গৌতম বুদ্ধ নগর পুলিশ কমিশনারেট দাবি করেছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইতিমধ্যেই ৭টি মামলা রুজু হয়েছে এবং বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবারও নয়ডার শিল্পাঞ্চলগুলোতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন— যে হাইটেক সিটির নিরাপত্তায় প্রশাসন গর্ব করে, সেখানে এক লহমায় কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ল?