আট লক্ষ কোটি টাকা দেনা! বেতন-পেনশন নিয়ে কি বড় সংকটে বাংলা? নির্বাচনের আগেই আমলার বিস্ফোরক তথ্যে তুঙ্গে শোরগোল

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে আশঙ্কার মেঘ। রাজ্যের দেনা কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষক সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এক উচ্চপদস্থ সরকারি আমলার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ এখন কার্যত ‘অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা’র মুখে দাঁড়িয়ে।
আমলার বিস্ফোরক দাবি: শূন্য হতে পারে কোষাগার?
সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ দপ্তরের এক আমলা তাঁকে জানিয়েছেন যে রাজ্যের দেনার পরিমাণ প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁইছুঁই। এর ফলে দেখা দিতে পারে একগুচ্ছ ভয়াবহ পরিস্থিতি:
-
বেতন ও নিয়োগে টান: সিভিক ভলান্টিয়ার, আশাকর্মী এবং আইসিডিএস কর্মীদের বেতন নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে। এমনকি আগামী দুই বছর সব ধরণের স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
-
ডিএ ও পিএফ অনিশ্চিত: মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র দাবি কেবল কাগজ-কলমেই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা। পিএফ-এর টাকা জমা পড়ছে কি না, তা নিয়ে খোদ সরকারি মহলেই প্রশ্ন উঠছে।
-
ঠিকাদারদের বকেয়া: গত দু’বছর ধরে অধিকাংশ ঠিকাদারের পেমেন্ট বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থ সচিবের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো বড় পেমেন্ট এখন আর ছাড়ছে না নবান্ন।
স্তব্ধ হতে পারে সরকারি পরিষেবা?
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, সরকারি পরিবহন ব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। তেলের পয়সা না থাকায় ডিপোতেই দাঁড়িয়ে থাকছে বাস। চালক ও কন্ডাক্টররা ডিউটিতে এসেও কাজ না করে ফিরে যাচ্ছেন। এমনকি সরকার নিজের ইলেকট্রিক বিল মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছে বলে দাবি করেছেন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচনী বৈতরণী পার করার কৌশল?
বিরোধী শিবির এই তথ্যকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে আক্রমণ শানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, কেবল ভোট সামাল দিতেই এই সংকটের কথা চেপে রাখা হচ্ছে। যদিও শাসক দলের পক্ষ থেকে এই দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের এই ‘ঋণগ্রস্ত’ ছবি সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রবল উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।