সন্দেশখালিতে বীভৎস কাণ্ড! দোতলার ঘরে বড় বাক্সের ভেতর মা ও ৩ মাসের শিশুর দগ্ধ দেহ, আটক স্বামী!

রাজ্য রাজনীতিতে বারবার শিরোনামে আসা সন্দেশখালিতে এবার এক চরম মর্মান্তিক ও হাড়হিম করা ঘটনা। একটি বন্ধ ঘরের ভেতর বড় বাক্সের মধ্য থেকে উদ্ধার হলো মা এবং তাঁর মাত্র তিন মাসের শিশুকন্যার ঝলসানো দেহ। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি থানার মণিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নলপাড়া এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতরা হলেন সুনিতা মাইতি (৩৫) এবং তাঁর একরত্তি কন্যা শ্রুতি।
ভোররাতে ভয়াবহ আবিষ্কার
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার স্বামী বিপ্লব মাইতি শনিবার রাতে আইপিএল খেলা দেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভোর ৪টে নাগাদ ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন পাশে স্ত্রী ও সন্তান নেই। খোঁজাখুঁজি করতে করতে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে গিয়ে তিনি দেখেন, একটি বড় বাক্সের ভেতরে স্ত্রী ও মেয়ের ৯০ শতাংশ দগ্ধ দেহ পড়ে রয়েছে। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
মৃত্যু না কি খুন? দানা বাঁধছে রহস্য
দেহ দুটি উদ্ধার করে খুলনা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী বিপ্লব মাইতিকে আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চরম অশান্তি চলছিল। সেই বিবাদের জেরে সুনিতা দেবী চরম পথ বেছে নিয়েছেন, না কি এর পেছনে অন্য কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ভোটের আবহে কড়া প্রহরা
সন্দেশখালি এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার ওপর সামনেই নির্বাচন। তাই এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকানন্দ ভাওয়াল জানিয়েছেন, “মৃতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।” এই ঘটনায় গোটা মণিপুর গ্রামে এখন শোকের ছায়া।