রাত ১১টার পর ছাত্রীদের ‘স্পেশাল মেসেজ’, গরুর মাংস খেতে চাপ! যোগীরাজ্যে গ্রেফতার কোচিং শিক্ষক সোহেল

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা নষ্ট করার এক গুরুতর অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে। এক কোচিং সেন্টারের শিক্ষক সোহেল আহমেদের বিরুদ্ধে উঠেছে ছাত্রছাত্রীদের ধর্মান্তকরণে চাপ দেওয়া এবং হিন্দু দেব-দেবী নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগ। শুধু তাই নয়, জোর করে গরুর মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা এবং গভীর রাতে ছাত্রীদের অশালীন মেসেজ পাঠানোর অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

অশোভন আচরণ ও ‘স্পেশাল নোটস’-এর ফাঁদ

অভিযোগকারী ছাত্রীরা জানিয়েছে, শিক্ষক সোহেল আহমেদ নিয়মিত তাদের ব্যক্তিগত নম্বর চাইতেন। রাত ১১টা ৩০ মিনিটের পর ‘স্পেশাল নোটস’ পাঠানোর অজুহাতে তিনি ছাত্রীদের আপত্তিকর ও অস্বস্তিকর মেসেজ করতেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁর কেরিয়ার নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দিতেন ওই শিক্ষক। ছাত্রীদের অভিযোগ, সোহেল দম্ভ করে বলতেন— “আমাদের সঙ্গে লড়াই করে জিততে পারবি না, পুলিশ স্টেশনে গিয়েও লাভ নেই।”

ধর্মান্তকরণ ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ

মামলার এফআইআর অনুযায়ী, সোহেল আহমেদ ক্লাসের হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে অশ্রদ্ধাসূচক কথা বলতেন। এমনকি হিন্দু পড়ুয়াদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্ররোচনা দেওয়া এবং জোর করে গরুর মাংস খাওয়ানোর মতো অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। স্থানীয় বিজেপি নেতা ও হিন্দু সংগঠনগুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে।

তদন্তে পুলিশ: ষড়যন্ত্রের পাল্টা দাবি আইনজীবীর

ঝাঁসি পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত সোহেল আহমেদের ফোন এবং মেসেজ রেকর্ড ফরেন্সিক তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, সোহেল আহমেদের আইনজীবী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কিছু ছাত্র পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় এবং শাসন করায় প্রতিহিংসা বশত এই মিথ্যে অভিযোগ সাজিয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের স্তব্ধতা কাটিয়ে ছাত্রছাত্রীরা যেভাবে প্রকাশ্যে মুখ খুলছে, তাতে তদন্তের মোড় সোহেলের বিপক্ষেই যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।