পরের ঘর সামলাতে গিয়ে নিজের ঘরেই আগুন! চীন-তালেবান বৈঠকে মুখ পুড়ল পাকিস্তানের

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতার দাবি করে বিশ্বমঞ্চে বাহবা কুড়োনোর চেষ্টা করলেও, নিজের সীমানায় শান্তি ফেরাতে চরম ব্যর্থ পাকিস্তান। মঙ্গলবার চীনে অনুষ্ঠিত তালেবান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। উল্টে তালেবানের একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কথা বললেও আফগানিস্তানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে ব্যর্থতা পাকিস্তানের কূটনৈতিক দৈন্যকেই প্রকট করে তুলেছে।

সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা নিয়ে তালেবানের টিপ্পনী:
বিবিসি পশতু সূত্রে খবর, চীনের আয়োজিত এই বৈঠকে তালেবান প্রতিনিধিরা সরাসরি পাকিস্তানের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তারা পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদের’ সংজ্ঞা স্পষ্ট করতে বলে কটাক্ষ করেন। তালেবানের দাবি, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে বারবার আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, ডুরান্ড লাইনকে (আফগান-পাক সীমান্ত) স্বীকৃতি না দেওয়ার বিষয়েও তালেবান তাদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

টিটিপি ও ডুরান্ড লাইন নিয়ে সংঘাত:
রয়টার্সের তথ্যমতে, টানা ৬ দিন ধরে চলা এই বৈঠকে পাকিস্তান দাবি করে যে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP) কাবুলে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তালেবান এই দাবি তীব্রভাবে অস্বীকার করে পালটা জানায় যে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও পাকিস্তানি বাহিনী আফগান ভূখণ্ডে হানা দিচ্ছে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানিয়েছেন, “সবকিছুই পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করবে, আমরা যুদ্ধের অবসান চাইলেও ইসলামাবাদের নীতি অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

চীনের মধ্যস্থতা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
চীন এই শান্তি আলোচনার নেতৃত্ব দিলেও তুরস্ক, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের একগুঁয়েমি এবং তালেবানের ডুরান্ড লাইন বিরোধী অবস্থানের কারণে আপাতত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। নিজের আঙিনায় বারুদের গন্ধ থাকার পরেও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী সাজার চেষ্টাকে এখন ‘হাস্যকর’ বলছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।