‘বিজেপি এলেই বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার!’ ভোটমুখী বাংলায় তৃণমূল কাউন্সিলরের দাবিতে তোলপাড়

ভোটের বাদ্যি বাজতেই বাংলায় ফের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে সেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’। কামারহাটি পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলাদের হাতে ‘লক্ষ্মীর ঘট’ তুলে দেওয়ার একটি অনুষ্ঠান থেকে সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল কাউন্সিলর বিমল সাহা। তাঁর দাবি, “বিজেপি ক্ষমতায় এলেই প্রথম কাজ হবে গরিব মা-বোনেদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া।” কাউন্সিলরের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিমল সাহা এদিন স্পষ্ট জানান, সাধারণ ঘরের মহিলাদের কাছে এই প্রকল্পের টাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা মা-বোনেদের হাতে ঘট তুলে দিচ্ছি যাতে তাঁরা টাকা জমিয়ে পুজোর সময় কাজে লাগাতে পারেন। কিন্তু বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে এই সুবিধা আর থাকবে না। তাই সবাইকে আগাম সতর্ক করছি।” তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি সবসময় জনস্বার্থ বিরোধী রাজনীতি করে এবং উন্নয়ন স্তব্ধ করতে চায়।
পাল্টা দিতে দেরি করেনি বঙ্গ বিজেপি-ও। বিজেপি নেতা জয় সাহা তৃণমূলের এই দাবিকে স্রেফ ‘ভয়ের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর পাল্টা তোপ, “রাজ্য সরকারের কোষাগার শূন্য। সরকারি কর্মীদের ডিএ (DA) দেওয়ার টাকা নেই, অথচ ভোট কিনতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে রাজনীতি চলছে।” বিজেপির দাবি, দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ধরনের প্রকল্পে আরও বেশি অর্থ দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষ এখন সব বোঝেন।
উল্লেখ্য, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি ছিল এই প্রকল্প। সেই ধারা বজায় রাখতে এবারও বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১২০০ টাকা করে পান। সরকারের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, শীঘ্রই এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াবে যথাক্রমে ১৫০০ এবং ১৭০০ টাকায়। ভোটের মুখে এই বর্ধিত ভাতা ও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৃণমূল-বিজেপির এই কাজিয়া বাংলার জনমতকে কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।