ভোটের মুখে মমতার ওপর ‘অভিমান’ ইমামদের! ৩০০০ টাকায় সংসার চলে না, ক্ষোভে ফুঁসছে জলপাইগুড়ি

লোকসভা ভোটের বাদ্যি বাজার মুখে রাজ্য বাজেটে দরাজ হস্ত ছিল সরকারের। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে আশা কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে অঙ্গনওয়াড়ি—ভাতা বেড়েছে প্রায় সব ক্ষেত্রেই। কিন্তু সেই তালিকায় ব্রাত্যই থেকে গেলেন ইমাম ও মোয়াজ্জেমরা। আর তাতেই ভোটের মুখে ক্ষোভের বারুদ জমছে সংখ্যালঘু মহলে। খোদ তৃণমূল প্রভাবিত ইমাম সংগঠনের নেতারাই এবার প্রকাশ্যেই সরকারের বিরুদ্ধে হতাশা জাহির করেছেন।

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের তৃণমূল প্রভাবিত ইমাম সংগঠনের সভাপতি জাহিরুল ইসলাম সরাসরি তোপ দেগেছেন সরকারের দিকে। তাঁর সাফ কথা, “আমরা তৃণমূল দল করি ঠিকই, কিন্তু ৩০০০ টাকায় এখনকার বাজারে কিছুই হয় না। সরকার অন্তত ৫০০ টাকা বাড়াতে পারত।” একই সুর চরকডাঙি জামা মসজিদের মোয়াজ্জেম আব্দুল মজিদের গলায়। বর্তমান অগ্নিমূল্য বাজারে দেড় হাজার টাকার সাম্মানিককে উপহাস বলেই মনে করছেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, ইমামদের ভাতা অন্তত ৬-৭ হাজার টাকা করা উচিত।

এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধীরাও। সিপিএম ও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এবারের বাজেট আসলে তৃণমূলের নির্বাচনী ইশতেহার। যোগ্যদের চাকরি নেই, আর ভাতার বৈষম্যই এবার নির্বাচনে তৃণমূলকে কোণঠাসা করবে। যদিও শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান প্রধান জানিয়েছেন, তাঁরা আশাবাদী যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চয়ই ইমামদের কথা ভাববেন। তবে এই ক্ষোভ ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে এখন তোলপাড় জেলা রাজনীতি।