বইমেলায় রেকর্ড ভাঙা ভিড়! ৩২ লক্ষ মানুষের পা আর ২৭ কোটির বই বিক্রি, ইতিহাস গড়ল কলকাতা

সবেমাত্র পর্দা নামল ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার। কিন্তু একে এখনই ‘শেষ’ বলতে নারাজ পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। বরং তাঁদের মতে, এই সমাপ্তিই হলো আগামী বছরের ৫০তম বর্ষ তথা সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষের সূচনালগ্ন। মঙ্গলবার রাতে প্রথা মেনে ঐতিহ্যবাহী হাতুড়ি ৪৯ বার ঠুকে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীসহ বিশিষ্ট সাহিত্যিকরা।

গিল্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের বইমেলা গতবারের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এ বছর মেলায় বইপ্রেমীদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩২ লক্ষ, যা গত বছর ছিল ২৭ লক্ষ। বই বিক্রির অঙ্কটাও তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো; গতবারের ২৩ কোটি টাকাকে ছাপিয়ে এবার বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকার বই। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মানুষের সমাগম এবং বিক্রির পরিমাণ—উভয় ক্ষেত্রেই ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এর নেপথ্যে মেট্রো পরিষেবা এবং মেলার দিনগুলির মধ্যে ৬টি ছুটির দিন থাকাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

আগামী বছর বইমেলার ৫০তম বর্ষ। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁতে এখন থেকেই কোমর বাঁধছে গিল্ড। সভাপতি সুধাংশু শেখর দে জানিয়েছেন, ১৯৯৭ সালের অগ্নিকাণ্ডে অনেক নথিপত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। যদি সাধারণ মানুষের কাছে পুরনো মেলার কোনো বিরল নথি বা ছবি থাকে, তবে তা দিয়ে গিল্ডকে সাহায্য করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সেইসব নথি নিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, ত্রিদিববাবু বিধাননগরের মেয়রের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে আগামী বছর মেলার পরিধি আরও কিছুটা বাড়ানো যায়।

আগামী বছরের নির্ঘণ্ট নিয়েও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। গিল্ডের কোষাধ্যক্ষ রাজু বর্মন জানিয়েছেন, তাঁরা চাইছেন ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেলার উদ্বোধন করুন। এতে ২৩ ও ২৬ জানুয়ারির ছুটি পাওয়া যাবে, যা বইপ্রেমীদের ভিড় টানতে সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, এবারের থিম দেশ ছিল আর্জেন্টিনা। ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চিনের মতো দেশগুলিও এবারের মেলায় অংশ নিয়েছিল। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে ১০০০-এর বেশি স্টল নিয়ে এবারের বইমেলা এশিয়ার বৃহত্তম বইমেলা হিসেবে নিজের শিরোপা অক্ষুণ্ণ রেখেছে।