আকাশপথে ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! ৩৫০ কিমি দূরের শত্রু খতম করবে ‘গান্ডিভা’, ডিআরডিও-র হাতে নয়া প্রযুক্তি

সামরিক শক্তিতে বিশ্বসেরাদের তালিকায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূল থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‍্যামজেট’ (SFDR) প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই সাফল্যের ফলে ভারত এখন সেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশের অভিজাত গোষ্ঠীতে নাম লেখাল, যাদের কাছে এই অত্যাধুনিক প্রপালশন প্রযুক্তি রয়েছে। এই প্রযুক্তি মূলত ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল ‘অস্ত্র মার্ক-৩’ (Astra Mk-3)-কে শক্তি জোগাবে, যা ‘গান্ডিভা’ নামেও পরিচিত।

ডিআরডিও একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছে, চাঁদিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরীক্ষার সময় প্রথমে একটি বুস্টারের সাহায্যে সিস্টেমটিকে সুপারসনিক গতি দেওয়া হয়, এরপর র‍্যামজেট ইঞ্জিনটি দায়িত্ব নেয়। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—সাধারণ রকেটের মতো একে ভেতরে ভারী অক্সিজেন বহন করতে হয় না। ওড়ার সময় এটি বায়ুমণ্ডল থেকেই অক্সিজেন গ্রহণ করে জ্বালানি দহনে সাহায্য করে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি অনেক হালকা হয় এবং অতি দ্রুতগতিতে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পারে।

ভারতের হাতে বর্তমানে অস্ত্র মিসাইলের তিনটি শক্তিশালী সংস্করণ রয়েছে:

অস্ত্র মার্ক-১: এটি ১১০ কিমি পাল্লার এবং শব্দের চেয়ে ৪.৫ গুণ দ্রুত ছুটতে পারে।

অস্ত্র মার্ক-২: ডুয়াল-পালস রকেট মোটর সমৃদ্ধ এই মিসাইল ১৬০ কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানে।

অস্ত্র মার্ক-৩ (গান্ডিভা): এটিই ভারতের সবচেয়ে বিধ্বংসী সংস্করণ। ৩৪০ থেকে ৩৫০ কিমি পাল্লার এই মিসাইল অনায়াসেই শত্রুপক্ষের রাডার বিমান (AWACS) বা ট্যাঙ্কার বিমানকে ধ্বংস করতে সক্ষম।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গান্ডিভা’ বা অস্ত্র মার্ক-৩-এর অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় বায়ুসেনাকে এক অপরাজেয় শক্তি দেবে। দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধে ভারত এখন এতটাই স্বয়ম্ভর যে, চোখের আড়ালে থাকা শত্রুকেও মহাকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হবে। ডিআরডিও-র এই সাফল্য ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha