মৃতদেহের চর্বিতেই মিলবে স্বপ্নের ফিগার! ৯০ লক্ষের এই ভয়ানক বিউটি ট্রিটমেন্টে কাঁপছে দুনিয়া

সৌন্দর্যের নেশা মানুষকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, তার এক ভয়ংকর উদাহরণ তৈরি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। নিখুঁত ‘আওয়ারগ্লাস ফিগার’ বা বালিঘড়ির মতো শারীরিক গঠন পেতে এখন আর কেবল ব্যায়াম বা ডায়েট নয়, তরুণীরা বেছে নিচ্ছেন মৃতদেহের চর্বি। শুনতে শিউরে ওঠার মতো হলেও, বর্তমানে বিদেশের বাজারে এই ‘ক্যাডাভার ফ্যাট’ বা মৃতদেহের চর্বি ব্যবহার করে কসমেটিক সার্জারি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
টাইগার অ্যাসথেটিক্স নামক একটি সংস্থা ‘অ্যালোক্লে’ (AlloFill) ব্র্যান্ডের অধীনে এই পরিষেবা দিচ্ছে। এই পদ্ধতিতে মূলত চিকিৎসা গবেষণার জন্য দান করা মৃতদেহ থেকে চর্বি সংগ্রহ করা হয়। সেই চর্বিকে ল্যাবরেটরিতে বিশেষভাবে পরিশোধন করা হয় যাতে ডিএনএ বা কোনো জীবিত কোষ অবশিষ্ট না থাকে। এর ফলে গ্রাহকের শরীরে কোনো অ্যালার্জি বা সংক্রমণের ভয় থাকে না বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।
নিউ ইয়র্কের এক ৩৪ বছর বয়সী তরুণী জানিয়েছেন, নিজের নিতম্বের গঠন সুন্দর করতে তিনি প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে এই ট্রিটমেন্ট করিয়েছেন। তিনি মনে করেন এতে নীতিগত কোনো বাধা নেই। সাধারণত যারা খুব রোগা বা যাদের শরীরে পর্যাপ্ত মেদ নেই, তারা প্রথাগত ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট (BBL) করতে পারেন না। তাদের জন্যই এই ‘রেডিমেড’ মৃতদেহের চর্বি ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে পুশ করা হয়। এমনকি ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ব্যবহারের ফলে যাদের শরীর ঝুলে গিয়েছে, তারাও এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন।
তবে এই বিলাসিতা মোটেও সস্তা নয়। ইনজেকশনের পরিমাণ অনুযায়ী এই চিকিৎসার খরচ ১০,০০০ ডলার থেকে শুরু করে ১,০০,০০০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, মৃতদেহ ব্যবহারের নৈতিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চিকিৎসকদের একাংশ।