পরমাণু শক্তিধর দেশের এ কী হাল? আধুনিক হোস পাইপ নয়, বালতি জলেই আগুন নেভানোর লড়াই পাকিস্তানে

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের একটি ভিডিও বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হচ্ছে, যা দেশটির জননিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবার কঙ্কালসার অবস্থাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগেছে, কিন্তু তা নেভানোর জন্য আসা দমকলকর্মীদের হাতে কোনো আধুনিক ফায়ার টেন্ডার বা হাই-প্রেশার হোজ পাইপ নেই। পরিবর্তে, তাদের দেখা যাচ্ছে হাতে করে প্লাস্টিকের বালতি নিয়ে জল ঢালতে!

একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যখন দমকল বাহিনীকে খবর দেন, তারা আশা করেছিলেন আধুনিক যান্ত্রিক সরঞ্জাম নিয়ে কর্মীরা পৌঁছবেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দমকলকর্মীদের এমন আদিম পদ্ধতি দেখে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা হতবাক হয়ে যান। ভিডিওতে এক পথচারীকে বলতে শোনা যায়, “এভাবে কি কোনোদিন আগুন নেভানো সম্ভব?”

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনরা পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট এবং পরিকাঠামো নিয়ে বিদ্রুপ শুরু করেছেন। একজন ইউজার উপহাস করে লিখেছেন, “হে ঈশ্বর! পাকিস্তান কি তবে প্রস্তর যুগে ফিরে গেল?” অন্য একজন লিখেছেন, “দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনো প্রদর্শনীর নাটক চলছে। বালতির জল ঢেলে আগুন নেভানো যে অসম্ভব, সেটা ওরাও জানে।” তবে অনেকে দমকলকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিও প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এটি ওই কর্মীদের ব্যর্থতা নয়, বরং পাকিস্তান সরকারের অক্ষমতা যে তারা কর্মীদের নুন্যতম সরঞ্জামটুকুও সরবরাহ করতে পারছে না।

যদিও এই ভাইরাল ভিডিওটির সঠিক স্থান এবং সময় সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে এটি পাকিস্তানের জননিরাপত্তা ব্যবস্থার বেহাল দশাকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সম্পদের অভাব এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটির কারণে এর আগেও পাকিস্তানে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। এই ভিডিওটি আবারও প্রমাণ করল যে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও দেশটি কতটা পিছিয়ে রয়েছে।