“চুক্তি মানুন নাহলে আলাদা করুন!” বাংলা ভাগের হুঙ্কার দিয়ে শাহ-মোদীকে চরম হুঁশিয়ারি অনন্ত মহারাজের

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ালেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত রায়, যিনি অনন্ত মহারাজ নামেই সমধিক পরিচিত। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি ফের পৃথক কোচবিহার রাজ্যের দাবি তুললেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “কোচবিহার চুক্তির ভিত্তিতে ভারতে শামিল হয়েছিল। হয় সেই চুক্তির মর্যাদা দিন, না হলে আমাদের আলাদা করে দিন।”
অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে এই বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন। কিন্তু তৃণমূলের সুরেই সুর মিলিয়ে বিজেপি সাংসদ যখন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং “কমিশনের জেল হওয়া উচিত” বলে মন্তব্য করেন, তখন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ, আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে নথির বাধ্যবাধকতা না থাকলেও কোচবিহারের মানুষের কাছে কেন বারবার নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে?
রাজবংশী সম্প্রদায়ের অবিসংবাদিত নেতা অনন্ত মহারাজ মনে করিয়ে দেন যে, কোচবিহার কোনো দান বা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ভূখণ্ড নয়, বরং এটি একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা একই থাকে। ঐতিহাসিক চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে আমরা আলাদা হয়ে যেতে বাধ্য হব।”
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের তফশিলি জাতি ভোটের প্রায় ১৮ শতাংশই রাজবংশী সম্প্রদায়ভুক্ত। উত্তরবঙ্গের মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি থেকে শুরু করে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে এই সম্প্রদায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই বিজেপি ২০২৩ সালে তাঁকে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠিয়েছিল। কিন্তু বিধানসভা ভোটের মুখে অনন্ত মহারাজের এই ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান বিজেপিকে যেমন অস্বস্তিতে ফেলেছে, তেমনি পৃথক কামতাপুর বা কোচবিহারের দাবি উত্তরবঙ্গের রাজনীতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।