“আসামে থাকতে হলে শান্তিতে থাকা যাবে না!” মিঞা ও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বিস্ফোরক হিমন্ত

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মিঞা সম্প্রদায় এবং অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ফের একবার তাঁর কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ১ ফেব্রুয়ারি গোয়ালপাড়া জেলায় এক নারী উদ্যোক্তা তহবিল বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের এদেশ থেকে তাড়ানো সহজ কাজ নয়, তাই তাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলার পথ বেছে নেবে তাঁর সরকার। তিনি সাফ বলেন, “আমরা তাদের ক্রিম এবং দই খাইয়ে আপ্যায়ন করতে পারি না এবং আশা করতে পারি না যে তারা নিজে থেকে জমি ছেড়ে চলে যাবে।”
মুখ্যমন্ত্রী শর্মা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় জানান, যতদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন আছেন, ততদিন কোনো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশিরা আসামে শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। আমি তাদের হয়রানি চালিয়ে যাব যতক্ষণ না তারা নিজেরা আসাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।” তাঁর মতে, কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
এদিন ‘মিঞা’ শব্দটির ব্যাখ্যা দিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, তাঁর কাছে এই শব্দটি অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের সমার্থক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা ভারতের নাগরিকই নন, তারা কীভাবে আসামের রাস্তায় রিকশা চালানোর বা কাজ করার অধিকার পান? তাঁর আগের বিতর্কিত বক্তব্যের সূত্র টেনে তিনি বলেন, “আইন অনুযায়ী কেবল ভারতীয় নাগরিকরাই এই দেশে কাজ করতে পারেন। তাহলে বাংলাদেশিরা কীভাবে কাজ করছেন? আমি বলেছিলাম তাদের পারিশ্রমিক কমিয়ে দিতে, কারণ তারা অবৈধ।”
অনুপ্রবেশ সমস্যার জন্য পূর্বতন কংগ্রেস সরকারকে দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কংগ্রেসের তোষণ নীতির কারণেই এই সমস্যা শিকড় গেড়েছে। এটি নির্মূল করতে সময় লাগবে ঠিকই, তবে তাঁর সরকার আসামের ভূমিপুত্রদের স্বার্থ এবং জনবিন্যাস রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। গোয়ালপাড়ার এই কড়া বার্তা আসামের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।