যোগী আদিত্যনাথের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! মন্ত্রীদের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে মিলবে দ্রুত অনুমোদন

গতিশীল প্রশাসন, স্বচ্ছ বাজেট; উত্তরপ্রদেশকে দেশের আর্থিক মডেল বানাতে মরিয়া যোগী

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নমূলক কাজগুলিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে মন্ত্রীদের ক্ষমতার সীমা বাড়িয়ে দিলেন তিনি। শুক্রবার অর্থ বিভাগের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কী কী বড় পরিবর্তন আনলেন মুখ্যমন্ত্রী?

  • অনুমোদনের সীমা বৃদ্ধি: আগে বিভাগীয় মন্ত্রীরা ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের অনুমোদন দিতে পারতেন, এখন সেই সীমা বাড়িয়ে ৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের ফাইল অর্থমন্ত্রী এবং তার বেশি টাকার প্রকল্প সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে অনুমোদিত হবে।

  • কড়া ডেডলাইন: সমস্ত সরকারি বিভাগকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তাদের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা (Annual Action Plan) জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যর্থ হলে তালিকা পাঠানো হবে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে।

  • খরচ বৃদ্ধি নিয়ে কড়াকড়ি: কোনও প্রকল্পের ব্যয় যদি ১৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়, তবে তার জন্য উপযুক্ত কারণ দর্শিয়ে পুনরায় অনুমোদন নিতে হবে।

অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীদের মুখে হাসি

স্বল্প বেতনের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন: ১. প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে আশা এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সাম্মানিক ভাতা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে হবে। ২. কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা আসতে দেরি হলেও রাজ্যকে নিজস্ব তহবিল থেকে অগ্রিম বেতন মিটিয়ে দিতে হবে যাতে কর্মীরা সংকটে না পড়েন।

নির্মাণ কাজে নতুন নিয়ম: ৫ বছরের গ্যারান্টি

যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, রাস্তা তৈরির মতো এখন থেকে সরকারি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও ঠিকাদারদের বাধ্যতামূলক ৫ বছরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে। কাজের মান যাচাই করতে আইআইটি (IIT) বা এনআইটি (NIT)-র মতো প্রতিষ্ঠান দিয়ে থার্ড পার্টি অডিট করানো হবে।

দেশের মধ্যে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ১,১০,৫৫৫ কোটি টাকা মূলধনী ব্যয় করে উত্তরপ্রদেশ দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রেখে উন্নয়নের পথে হাঁটায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও নীতি আয়োগও উত্তরপ্রদেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের প্রশংসা করেছে।