নদীয়ায় তোলপাড়! ‘বাংলার বাড়ি’ পেতে চাওয়া হলো ২০ হাজার টাকা, দিতে অস্বীকার করতেই ছিঁড়ে ফেলা হলো নথি!

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পাল্টা জবাব দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটা করে শুরু করেছেন ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প। কিন্তু সেই সাধের প্রকল্পেই এবার থাবা বসালো ‘কাটমানি’ বিতর্ক। নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ২০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। আর সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় উপভোক্তার সমস্ত কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলার মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগ ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত।

ঘটনাটি ঘটেছে নাকাশিপাড়া বিধানসভার বীরপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিদ্রাপোতা গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দা দামিনী বিবির দাবি, তাঁর মাথার ওপর পাকা ছাদ নেই, তাই সরকারি আবাসের তালিকায় তাঁর নাম এসেছিল। অভিযোগ, গত বুধবার বীরপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য উকিল আলি মণ্ডল তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। দামিনী বিবি ও তাঁর স্বামী শুকুর আলি জানান, অভাবের সংসারে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। অভিযোগ, টাকা দিতে না চাওয়ার কথা শুনেই মেজাজ হারান ওই পঞ্চায়েত সদস্য। মুহূর্তের মধ্যে তিনি দামিনী বিবির অনুমোদনের সার্ভে ফর্ম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছিঁড়ে কুটি কুটি করে ফেলে দেন।

এই নক্ক্যারজনক ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। উপভোক্তা দামিনী বিবি ইতিমধ্যেই নাকাশিপাড়া থানায় ওই সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি বিডিও-র কাছেও অভিযোগ জমা পড়েছে। যেখানে রাজ্য সরকার আবাস যোজনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য বারবার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দিচ্ছে, সেখানে একজন জনপ্রতিনিধির এই আচরণে অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও বিরোধীরা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের মাঝে মাঝখান থেকে ফায়দা তুলছে নিচুতলার দুর্নীতিবাজ নেতারা। এখন দেখার, নাকাশিপাড়ার বিডিও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেন।