পাঞ্জাবকে আর ‘উড়তা’ নয়, ফের ‘রংলা পাঞ্জাব’ বানানোর হুঙ্কার! আমূল বদলে যাচ্ছে সীমান্ত এলাকার ভবিষ্যৎ

পাঞ্জাবকে আবারও তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিয়ে ‘রংলা পাঞ্জাব’ হিসেবে গড়ে তোলার শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। সোমবার ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবস্থিত অজনালায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিলান্যাস করেন তিনি। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, পূর্বতন সরকারগুলির অপশাসনের কারণেই পাঞ্জাবের যুবসমাজ কর্মসংস্থানের খোঁজে বিদেশে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই ধারায় ইতি টানতে বদ্ধপরিকর।
বকরৌর গ্রামে এই নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হবে শ্রদ্ধেয় ‘বাবা গমচুক জি মহারাজ’-এর নামে। এই কলেজটি প্রায় ১৫ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে, যা আশেপাশের ৫০টি গ্রামের যুবকদের উচ্চশিক্ষার পথ প্রশস্ত করবে। এখানে কেবল সাধারণ বিষয় নয়, বরং আধুনিক যুগের চাহিদাকে মাথায় রেখে কম্পিউটার সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ডিজিটাল শিক্ষার বিশেষ কোর্স চালু করা হবে।
বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস, আকালি দল এবং বিজেপি বছরের পর বছর ধরে পাঞ্জাবকে লুটেছে। কিন্তু আম আদমি পার্টির সরকারের অগ্রাধিকার হলো শিক্ষা ও কর্মসংস্থান।” মুখ্যমন্ত্রী আরও একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন—যেসব গ্রামের মানুষ এই কলেজের জন্য জমি দান করেছেন, তাঁদের সন্তানদের এই প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হবে।
সীমান্তবর্তী কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়ে ভগবন্ত মান জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতার আরও সীমান্তের দিকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার একর জমিতে কৃষিকাজ করা সহজ হবে। এদিনের অনুষ্ঠানে সিনিয়র আপ নেতা মণীশ সিসোদিয়া এবং শিক্ষামন্ত্রী হরজ্যোত সিং বৈন্স উপস্থিত ছিলেন। সরকার দাবি করেছে, বিগত কয়েক বছরে ইতিমধ্যে ৬৩,০০০-এর বেশি যুবককে মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে, যা পাঞ্জাবের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার পথে প্রথম ধাপ।