“আপনি কীভাবে শঙ্করাচার্য?”-অভিমুক্তেশ্বরানন্দকে নোটিশ পাঠালো মাঘ মেলা কমিটি

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মাঘমেলার পবিত্র আবহে মৌনী অমাবস্যার দিনে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। জ্যোতিষ পীঠের স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের শিষ্যদের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব মোহিত গুপ্ত এবং মেলা আধিকারিকদের বিবাদ এখন তুঙ্গে। এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অভিমুক্তেশ্বরানন্দকে একটি শোকজ নোটিস ধরানো হয়েছে, যেখানে তাঁর ‘শঙ্করাচার্য’ উপাধি নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: মৌনী অমাবস্যার দিন প্রথা মেনে পালকিতে চড়ে বিপুল সংখ্যক অনুগামীসহ সঙ্গম অভিমুখে স্নানের জন্য যাচ্ছিলেন অভিমুক্তেশ্বরানন্দ। প্রশাসনের দাবি, ভিড়ের চাপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিষ্যদের ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দেশ অমান্য করেই এগোনোর চেষ্টা করেন অনুগামীরা। এই সময় স্বরাষ্ট্র সচিব মোহিত গুপ্ত ও উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে শিষ্যদের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পালটা মারধরের অভিযোগ তুলেছে সরকার পক্ষও।

স্নানে বাধা ও ধরনা: এই চরম বিশৃঙ্খলার জেরে অভিমুক্তেশ্বরানন্দকে পবিত্র সঙ্গমে স্নান করতে বাধা দেয় পুলিশ। অপমানে ক্ষুব্ধ স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ তাঁর শিবিরের বাইরেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ধরনায় বসেছেন। তাঁর সাফ ঘোষণা, আধিকারিকরা নিঃশর্ত ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত এবং তাঁকে স্নান করতে না দেওয়া পর্যন্ত তিনি মাঘমেলা ত্যাগ করবেন না। এমনকি পূর্ণিমা পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আদালতের নির্দেশে অস্বস্তিতে ধর্মগুরু: ঘটনার মোড় ঘোরে যখন মেলা কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে একটি আইনি নোটিস পাঠানো হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি পুরনো নির্দেশের উল্লেখ করে ওই নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছে— “কোন যোগ্যতায় আপনি নিজেকে শঙ্করাচার্য বলে দাবি করছেন?” হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কেউ এককভাবে নিজেকে শঙ্করাচার্য ঘোষণা করতে পারেন না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।

উল্লেখ্য, আগামী মহাশিবরাত্রি পর্যন্ত এই মাঘমেলা চলবে। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়ের মাঝে এই প্রশাসনিক ও ধর্মীয় সংঘাত এখন জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।