দিল্লির তুর্কমান গেটে কড়া নিরাপত্তা, হিংসার ঘটনায় শনাক্ত ৩০, জারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নয়াদিল্লি: বুধবার ভোরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকা। অবৈধ নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে উন্মত্ত জনতার খণ্ডযুদ্ধ কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্রেফ গুজবের জেরে ছড়ানো এই হিংসার ঘটনায় এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল দিল্লি পুলিশ। ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে অন্তত ৩০ জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
গুজব বনাম বাস্তবতা দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে রামলীলা ময়দান সংলগ্ন ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদের পাশের একটি কবরখানার জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ সরাতে গিয়েছিল পুরসভা (MCD)। উচ্ছেদ চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, মসজিদের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও MCD ডেপুটি কমিশনার বিবেক কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, মসজিদের কোনো ক্ষতি করা হয়নি। শুধুমাত্র একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একটি ব্যাঙ্কোয়েট হলসহ কিছু বাণিজ্যিক কাঠামো ভাঙা হয়েছে।
পুলিশের ওপর হামলা ও ড্রোন নজরদারি বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও কাঁচের বোতল ছুড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ঘটনায় ৫ জন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। পুলিশ জানিয়েছে, হিংসার ঘটনার ৪০০টিরও বেশি ভিডিও তাদের হাতে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
কাঠগড়ায় সপা সাংসদ মহিবুল্লাহ নাদভি এই হিংসায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ মহিবুল্লাহ নাদভির বিরুদ্ধে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে পুলিশের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হতে দেখা গেছে। ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর। দিল্লি পুলিশ খুব শীঘ্রই তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।