হাওয়া অফিসের মন খারাপ করা খবর! বর্ষার মেঘ কেরলে এগোলেও বাংলায় কি এখনই মিলবে রেহাই?

তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে পুড়ছে গোটা বাংলা। কাঠফাটা রোদ আর ঘর্মাক্ত চটচটে আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাজেহাল দশা। ঘরের বাইরে বেরোলেই যেন আগুনের হলকা গায়ে লাগছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেকের মনে এখন একটাই প্রশ্ন— এই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে কবে মিলবে নিস্তার? কতদিন চলবে এই চাতক অপেক্ষা?

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অবশ্য দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য খুব একটা স্বস্তির খবর শোনাচ্ছে না। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে হু হু করে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বঙ্গে প্রবেশ করছে। এর ফলে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অতিরিক্ত বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের তাপমাত্রা গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ঘোরাফেরা করলেও, উচ্চ আর্দ্রতার কারণে “রিয়েল ফিল” বা গরমের প্রকৃত অনুভূতি ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলছে। আগামী দিনগুলিতেও তাপমাত্রার খুব একটা বড়সড় হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে, দিল্লির মৌসম ভবন জানিয়েছে যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আগামী ২৬ মে-র কাছাকাছি সময়ে কেরলে বর্ষা ঢুকে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কেরলে আগেভাগে বর্ষা এলেও বাংলা, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে তার প্রভাব কবে পড়বে তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি হাওয়া অফিস।

আপাতত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বাড়লেও, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি এখনই কোনো ভারী বা একটানা বৃষ্টির দেখা পাবে না। স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে দু-এক পশলা বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি বা বিকেলের দিকে সামান্য দমকা হাওয়া দিলেও, তা দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি দিতে পারবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। ফলে জ্যৈষ্ঠের এই হাঁসফাঁস করা গরমের খাঁচায় আরও কিছুদিন বন্দি থাকতে হবে রাজ্যবাসীকে।