আসল রেঞ্জ কত? লিথিয়াম ব্যাটারি নাকি অন্য কিছু? ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে লাখ টাকার এই তথ্যগুলি কি জানেন?

জ্বালানি তেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে ইলেকট্রিক স্কুটার বা ই-স্কুটারের (E-Scooter) চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া। প্রতিদিন রাস্তায় নামছে নিত্যনতুন মডেল। তবে চকচকে লুক আর আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে হুট করে একটি ইলেকট্রিক স্কুটার কিনে ফেললে পরবর্তীতে বড়সড় পস্তাতে হতে পারে। কারণ, পেট্রোল চালিত স্কুটারের তুলনায় ই-স্কুটার কেনার সমীকরণটা একেবারেই আলাদা।

নতুন একটি ইলেকট্রিক স্কুটার নিজের গ্যারেজে আনার আগে কোন কোন বিষয়ে সবথেকে বেশি নজর দেওয়া জরুরি, তা একনজরে দেখে নিন:

১. ব্যাটারির ধরন ও লাইফ (Battery Life)

ইলেকিক স্কুটারের মূল চালিকাশক্তি হলো তার ব্যাটারি। সাধারণত এই ধরনের স্কুটারে ‘লিথিয়াম-আয়ন’ (Li-ion) ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। কেনার আগে অবশ্যই দেখে নিন ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কত বছরের দেওয়া হচ্ছে এবং সেটি পরিবর্তন করতে ভবিষ্যতে কত খরচ হতে পারে। রিমুভেবল বা খুলে নেওয়া যায় এমন ব্যাটারি হলে চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায়।

২. আসল রেঞ্জ বনাম বিজ্ঞাপনী রেঞ্জ (True Range)

কোম্পানিগুলি বিজ্ঞাপনে যে রেঞ্জ (একবার চার্জে কত কিমি যাবে) দাবি করে, বাস্তব রাস্তায় চালকের ওজন, রাস্তার পরিস্থিতি এবং ট্রাফিকের কারণে সেই রেঞ্জ কিছুটা কমে যায়। তাই কোম্পানির ‘আইডিয়াল রেঞ্জ’ (IDC)-এর বদলে ‘ট্রু রেঞ্জ’ বা আসল রেঞ্জ কত, তা শোরুম থেকে ভালো করে জেনে নিন। আপনার প্রতিদিনের যাতায়াতের দূরত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মডেল নির্বাচন করুন।

৩. চার্জিং পরিকাঠামো এবং সময় (Charging Time)

স্কুটারটি সম্পূর্ণ চার্জ হতে কত সময় নিচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ চার্জারে যদি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে, তবে বাড়িতে রাতে চার্জ দেওয়ার সুবিধা আছে কিনা তা দেখে নিন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ফাস্ট-চার্জিং নেটওয়ার্ক আপনার শহরের প্রধান রুটগুলিতে উপলব্ধ কিনা, তাও যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৪. মোটর এবং চ্যাসিসের ক্ষমতা (Motor Power)

শহরের সমতল রাস্তায় যাতায়াতের জন্য ২৫০ ওয়াট থেকে ১ কিলোওয়াটের মোটর যথেষ্ট। তবে আপনি যদি পাহাড়ি বা উচুঁ-নিচু রাস্তায় যাতায়াত করেন, কিংবা নিয়মিত দু’জন চড়েন, তবে আরও শক্তিশালী (Hub Motor বা Mid-drive Motor) স্কুটার বেছে নেওয়া উচিত, যাতে চড়াই রাস্তায় স্কুটারটি সহজে টানতে পারে।

৫. বিক্রয়োত্তর পরিষেবা ও স্থায়িত্ব (After-Sales Service)

যে ব্র্যান্ডের স্কুটার কিনছেন, আপনার এলাকায় তাদের পর্যাপ্ত সার্ভিস সেন্টার রয়েছে কিনা তা সবার আগে নিশ্চিত করুন। কারণ ই-স্কুটারের সফটওয়্যার বা ইলেকট্রনিক্স পার্টসে সমস্যা হলে স্থানীয় গ্যারেজে তা সারানো অসম্ভব। এছাড়া বডি পার্টসের ফাইবার ও চ্যাসিসের বিল্ড কোয়ালিটি কেমন, তা টেস্ট রাইড নেওয়ার সময় ভালো করে পরখ করে নিন।

স্মার্ট ফিচার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) চাকচিক্যের চেয়েও স্কুটারের নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্বই হওয়া উচিত আপনার প্রথম পছন্দ। একটু সচেতন হয়ে সিদ্ধান্ত নিলে আপনার ই-স্কুটার কেনার সফরটি যেমন আরামদায়ক হবে, তেমনই সাশ্রয় হবে আপনার কষ্টার্জিত অর্থের।