“আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা অসম্ভব!” নিষেধাজ্ঞা ও জেল-জুলুমের মাঝেই হুঙ্কার সজীব ওয়াজেদ জয়ের।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও তাঁর প্রাক্তন উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হলেও, তাতে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এই প্রেক্ষাপটে প্রথমবার মুখ খুলে সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইসলামী শাসনব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অভিযোগ তুললেন জয়।

ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি? ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে ৫৪ বছর বয়সি জয় দাবি করেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে চরমপন্থী শক্তির উত্থান ঘটছে। তাঁর মতে, বর্তমান সরকার কার্যত কট্টরপন্থী শক্তিগুলির জন্য পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছে। এটি কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, প্রতিবেশী ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এক বিশাল ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা এবং হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, সেই আবহেই জয়ের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

আওয়ামী লীগ কি শেষ হয়ে গেল? দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জেলে অথবা নির্বাসনে থাকলেও জয় কিন্তু দমবার পাত্র নন। দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর স্পষ্ট বার্তা:

“আওয়ামী লীগকে একটি প্রশাসনিক আদেশ দিয়ে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ঐতিহাসিকভাবে আমাদের দল ৪০ শতাংশ মানুষের সমর্থন পায়। লক্ষ লক্ষ কর্মী ও সমর্থকদের এই শক্তিকে এড়িয়ে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না, আমরা ফিরে আসবই।”

রাজবংশ রাজনীতি ও আবেগ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যার পর শেখ হাসিনার রাজনীতিতে আসার প্রসঙ্গ টেনে জয় বলেন, তাঁর মা কখনও ‘রাজবংশ’ গড়ার উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে আসেননি। বরং পিতৃহত্যার বিচার ও মানুষের অধিকারের তাগিদেই তিনি হাল ধরেছিলেন। জয় নিজেও প্রয়োজনে একইভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হলেও আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ আন্দোলন যে আরও তীব্র হবে, তার স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের এই অবস্থান একদিকে যেমন দলের ঝিমিয়ে পড়া কর্মীদের চাঙ্গা করবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মহলে নতুন করে চাপের সৃষ্টি করতে পারে।