তামিলনাড়ুর ভোটার তালিকায় ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! এক ধাক্কায় বাদ ৯৭ লক্ষ নাম, নেপথ্যে কি বড় কোনো চক্রান্ত?

দেশজুড়ে ভোটার তালিকা পরিমার্জন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুতে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন কমিশন তামিলনাড়ুর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করতেই দেখা যায়, এক ধাক্কায় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রায় ৯৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮৩১ জন ভোটার। যা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ।
কেন বাদ পড়ল এত নাম? রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই বিপুল ছাঁটাই করা হয়েছে। কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান হলো:
২৬ লক্ষ ৯৪ হাজার ৬৭২ জন মৃত ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
৬৬ লক্ষ ৪৪ হাজার ৮৮১ জন স্থানান্তরিত ভোটার, যাঁরা বর্তমানে ওই ঠিকানায় থাকেন না।
৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৭৮ জন ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় নথিভুক্ত ছিল। পরিমার্জনের পর তামিলনাড়ুতে বর্তমান ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৪৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ৭৫৫ জন।
চেন্নাইয়ে সবচেয়ে বড় ধস সবচেয়ে বেশি কাটছাঁট হয়েছে খোদ চেন্নাই শহরে। সেখানে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৪ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের নাম। ৪০ লক্ষ থেকে ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫ লক্ষ ৭৯ হাজারে। এর মধ্যে ১২ লক্ষেরও বেশি ভোটার স্থানান্তরিত বলে দাবি করেছে কমিশন।
রাজনৈতিক লড়াই তুঙ্গে এই বিশাল ছাঁটাই নিয়ে ডিএমকে সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি বিরোধী দল এআইএডিএমকে (AIADMK) প্রধান ই কে পালানিস্বামী। তিনি দাবি করেন, “আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম যে ভোটার তালিকায় প্রচুর ভুয়ো নাম আছে। এই পরিমার্জন জরুরি ছিল। এখন ডিএমকে নানা নাটক করবে কারণ তাদের ভুয়ো ভোটের স্বপ্ন ভেস্তে গিয়েছে।” অন্যদিকে, ডিএমকে এই প্রক্রিয়াকে ‘তড়িঘড়ি নেওয়া সিদ্ধান্ত’ বলে পাল্টা দাবি করেছে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, এটি একটি খসড়া তালিকা মাত্র। ১৯ ডিসেম্বর থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অভিযোগ জানানো বা নাম তোলার আবেদন করা যাবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।