ভোটার কার্ড নিয়ে আর দৌড়াদৌড়ি নয়! কমিশনের নতুন অ্যাপে নিমেষেই মিটবে নামের ভুল।

ভোটার তালিকায় নামের বানান ভুল বা পদবীর সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি শেষ হতে চলেছে। রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইয়ের (SIR) কাজ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ‘বিএলও অ্যাপ’-এ (BLO App) বড়সড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। এই নতুন ফিচারের ফলে কয়েক লক্ষ ভোটারের দুশ্চিন্তা নিমেষেই দূর হতে পারে।
আসছে ‘রি-ভেরিফাই’ ফিচার: কী লাভ হবে ভোটারদের? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিএলও অ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে ‘রি-ভেরিফাই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Re-verify Logical Discrepancy) নামক একটি বিশেষ অপশন। এর মূল লক্ষ্য হলো ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে বর্তমান তথ্যের যে অসামঞ্জস্য রয়েছে, তা দূর করা।
অনেক সময় দেখা যায়, পুরনো তালিকায় নামের বানান একরকম ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা সামান্য বদলে গিয়েছে। আগে এই সামান্য ভুলের জন্যও ভোটারদের সরকারি দফতরে চক্কর কাটতে হতো। এখন বিএলও-রাই অ্যাপের মাধ্যমে এই ছোটখাটো ভুল সংশোধন করে দিতে পারবেন।
শুনানি ছাড়াই মিলবে মুক্তি! সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, যাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বানান বা মধ্য নামে সামান্য অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের আর সশরীরে শুনানিতে (Hearing) হাজির হতে নাও হতে পারে। বিএলও-রা অ্যাপের মধ্যেই একটি ‘আন্ডারটেকিং’ বা মুচলেকা জমা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের সময় ও হয়রানি দুই-ই কমবে।
নথি আপলোডে বিশেষ সুবিধা যাদের নাম এখনও ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ‘ম্যাপ’ করা যায়নি, তাঁদের জন্য বড় সুযোগ থাকছে। যদি পুরনো কোনো হার্ড কপি বা নথিপত্র থাকে, তবে বিএলও-রা সরাসরি তা স্ক্যান করে অ্যাপে আপলোড করতে পারবেন। রাজ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের তথ্য এখনও লিঙ্ক করা যায়নি; এই নতুন ব্যবস্থায় সেই জট কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কবে থেকে শুরু শুনানি? সফটওয়্যার আপডেটের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে। সব ঠিক থাকলে আগামী ২৬ বা ২৭ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যে ভোটার তালিকার শুনানি পর্ব শুরু হতে পারে। ইতিমধ্য়েই অনেককে নোটিশ পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
বোর্ড কর্মী ও বিএলও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল জানিয়েছেন, অ্যাপের এই আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দূর হলে ভোটার তালিকা অনেক বেশি স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে।