অসমে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৭ হাতির মৃত্যু, লাইনচ্যুত ট্রেনের ৫টি কামরা!

প্রযুক্তির হাজারও রক্ষাকবচ ছাপিয়ে ফের রেললাইনে বন্যপ্রাণীর রক্ত। এবার ঘটনাস্থল অসমের হোজাই এলাকা। মাঝরাতে ঝড়ের গতিতে ছুটে আসা রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রাণ হারাল এক সাথে ৭টি হাতি। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, এক্সপ্রেস ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ ৫টি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের ধারে ছিটকে পড়ে। অল্পের জন্য বড়সড় প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা।
রাত ২টো ১৫-র সেই বিভীষিকা রেল সূত্রে খবর, মিজোরামের সাইরাং থেকে দিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল ‘সাইরাং-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস’। রাত সোয়া ২টো নাগাদ অসমের হোজাইয়ের জঙ্গল ঘেরা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই লাইনের ওপর চলে আসে একটি বিশাল হাতির পাল। অন্ধকারের মধ্যে ট্রেনের চালক ব্রেক কষার সুযোগ পাওয়ার আগেই ঘটে যায় বিপর্যয়।
তছনছ রেললাইন, রক্তাক্ত বনভূমি প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ট্রেনের ধাক্কায় হাতিগুলো ছিটকে এদিক-ওদিক পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৭টি পূর্ণবয়স্ক হাতির। একটি হস্তিশাবক অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় কাতরাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, দ্রুত গতির কারণে ধাক্কার অভিঘাতে লাইনের বাইরে ছিটকে পড়ে ট্রেনের ইঞ্জিন এবং পাঁচটি বগি। দুর্ঘটনার পর আতঙ্কে ট্রেনের ভেতরেই কান্নাকাটি জুড়ে দেন যাত্রীরা।
যাত্রী সুরক্ষা ও রেলের তৎপরতা বগিগুলো লাইনচ্যুত হলেও মিরাকেলের মতো রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, কোনো যাত্রীরই বড়সড় চোট লাগেনি। তবে ঘটনার পর ওই শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীদের পরিজনদের দুশ্চিন্তা কমাতে তড়িঘড়ি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ব্যর্থ কি আধুনিক প্রযুক্তি? জঙ্গলের মধ্যে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে হাতি-ট্রেন সংঘর্ষ রোখার কথা বারবার বলে এসেছে রেল। কিন্তু অসমের এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিল সুরক্ষার ওপর। আধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন এই বিশাল হাতির পালকে আগে থেকে শনাক্ত করা গেল না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। বন দফতর ও রেল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে।