উদ্বোধনের ৩ মাস পরেও অন্ধকারে কোটি টাকার সেতু! বারুইপুরে সূর্যপুর ব্রিজে রাত নামলেই ওত পেতে বিপদ।

ঘটা করে উদ্বোধন হয়েছিল দুর্গাপুজোর ঠিক আগে। প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি ১৬ মিটার চওড়া এই সেতুটি বারুইপুর ও কুলপির মধ্যে সংযোগকারী প্রধান লাইফলাইন। কিন্তু উদ্বোধনের তিন মাস পার হতে চললেও এক ফালি আলো জ্বলেনি বারুইপুরের সূর্যপুর সেতুতে। সন্ধ্যা নামলেই এই ব্যস্ততম সেতুটি এখন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়।

সাড়ে ৭ কোটির সেতু, অথচ নিকষ অন্ধকার! ২০২২ সালে পুরনো সেতু ভেঙে নতুন করে কাজ শুরু করেছিল পূর্ত দফতর। দীর্ঘ আড়াই বছরের অপেক্ষা শেষে গত পুজোর আগে বিধানসভার অধ্যক্ষ তথা স্থানীয় বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এই সেতুর উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের দিন থেকেই অন্ধকার এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি। সেতুর দু’ধারে সামান্য কিছু দোকানের আলো যতটুকু পড়ে, তার বাইরে পুরো এলাকা যেন অন্ধকারের আস্তানা।

বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে কয়েকশো ছোট-বড় গাড়ি এবং ট্রাক চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অন্ধকারে বাইক বা সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করতে বুক কাঁপে তাঁদের। রাতে এই সেতু দিয়ে সাধারণ মানুষের হেঁটে যাতায়াত করাও এখন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রশাসন কি কোনো বড়সড় দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা করছে?

প্রশাসনের মুখে কুলুপ! বারুইপুর পূর্ত বিভাগের (ইলেকট্রিক্যাল) দফতর এই সমস্যার কথা স্বীকার করলেও সমাধানের কোনো দিনক্ষণ দিতে পারেনি। এক আধিকারিকের কথায়, “আমরা জেলা ও মহকুমা প্রশাসনকে সমস্যার কথা জানিয়েছি। নির্দেশ এলেই কাজ হবে।” তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, জেলা প্রশাসনের বহু আধিকারিক এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করলেও তাঁদের চোখে কেন এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি পড়ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

অপেক্ষার অবসান কবে? বারুইপুর-কুলপি সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সেতু নিয়ে এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে। আধিকারিকদের ‘দেখছি’ বা ‘নির্দেশ এলেই হবে’ জাতীয় গতে ধরা উত্তরে সন্তুষ্ট নন কেউ। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করে যাতায়াত নিরাপদ করতে হবে।