‘শত্রু শুধু রোগ, দেশ নয়’, ইসলামাবাদকে কার্যত ত্যাগ করে ভারতের হাত ধরছে কাবুল!

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত। যে পাকিস্তানের হাত ধরে একসময় আফগানিস্তানের পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ সেই সম্পর্কই খাদের কিনারায়। দীর্ঘদিনের ‘বন্ধু’ পাকিস্তানকে কার্যত একঘরে করে এবার ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল আফগানিস্তান। লক্ষ্য— দেশের ভেঙে পড়া জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করা এবং উন্নত মানের ওষুধের জোগান নিশ্চিত করা।
পাকিস্তানের আধিপত্য শেষ, নতুন দিগন্তের খোঁজে কাবুল আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী মাওলভি নূর জালাল জালালি সম্প্রতি এক বিস্ফোরক বয়ানে জানিয়েছেন, দেশটির ওষুধ বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশই এতদিন পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সীমান্ত সংঘাত, বাণিজ্যিক জটিলতা এবং ইসলামাবাদের একগুঁয়েমির কারণে সেই সরবরাহ ব্যবস্থা এখন লাটে উঠেছে। সাধারণ আফগান নাগরিকরা জীবনদায়ী ওষুধের অভাবে ধুঁকছেন। এই সংকট মেটাতেই এবার বিকল্প হিসেবে ভারতের ওপর ভরসা রাখছে তালিবান সরকার।
ভারতের প্রতি আস্থার কারণ কী? মন্ত্রী জালালির কথায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। আমরা স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্পে সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই।” বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারতের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কম খরচে উন্নত মানের ওষুধ সরবরাহে ভারতের জুড়ি মেলা ভার। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ভুলে এখন মানবিক কারণেই ‘বিশ্বের ফার্মাসি’ ভারতের দিকে ঝুঁকছে কাবুল।
‘রাজনীতি নয়, জীবন বাঁচানোই শেষ কথা’ এক অত্যন্ত মানবিক ও পেশাদার অবস্থান নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “একজন জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেবে আমার একমাত্র শত্রু হলো রোগ।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, দেশের মানুষের প্রাণ বাঁচাতে যদি শত্রু দেশের সাহায্য নিতে হয়, তাতেও তিনি পিছপা হবেন না। তাঁর এই মন্তব্য পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বর্তমান তিক্ত সম্পর্কের দিকেই সরাসরি ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পটপরিবর্তন? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ওষুধ আমদানির বিষয় নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের লক্ষণ। পাকিস্তানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আফগানিস্তানের ভারতের দিকে এই ঝুঁকে পড়া ইসলামাবাদের জন্য বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধাক্কা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে চিকিৎসক ও পরিকাঠামোর যে তীব্র অভাব রয়েছে, তা পূরণে ভারতের চিকিৎসা দক্ষতা (Medical Expertise) বড় ভূমিকা নিতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে, তা হবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ ডিপ্লোমাসির এক বিশাল জয়।