একই স্কুলে দাদু-বাবা-নাতি! শতবর্ষে পা দিল স্বাধীনতার আগের এই স্কুল, কাটোয়ায় বাঁধভাঙা আবেগ।

১৯২৫ সাল। দেশ তখন ব্রিটিশ শাসনে। সেই পরাধীন ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়াতে জন্ম নিয়েছিল এক বিদ্যাপীঠ। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও আজও অটুট তার গৌরব। আজ ১০০ বছরে পা দিল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার সেই ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ানাশ হাইস্কুল। এই বিশেষ মুহূর্তকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এখন শুধুই স্মৃতি আর আবেগের কোলাজ।

তিন প্রজন্মের মিলনমেলা
এই স্কুলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ধারাবাহিকতা। শতবর্ষের অনুষ্ঠানে দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য—একই ছাদের নীচে দাঁড়িয়ে আছেন তিন প্রজন্মের পড়ুয়ারা। দাদু এই স্কুলের প্রাক্তনী, ছেলেও ওখান থেকেই পাশ করেছেন, আর নাতি এখন বর্তমান পড়ুয়া। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র গৌতম ঘোষাল ও মৃন্ময় সাহা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “এটা শুধু স্কুল নয়, আমাদের শিকড়। আমার বাবা এখানে পড়েছেন, আমি পড়েছি, এখন আমার ছেলেও এখানেই পড়ছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।”

চাঁদের হাট বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে
শুক্রবার প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে এই তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য উৎসবের সূচনা করেন জেলাশাসক আয়েশা রাণী এবং বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত কিংবদন্তি শিল্পী রতন কাহার। তাঁর উপস্থিতি ও গান অনুষ্ঠানের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

স্মৃতির সরণি বেয়ে অতীতের গৌরব
কাটোয়া শহর থেকে দূরে একসময় সীমিত পরিকাঠামো নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এই স্কুল। আজ সেই স্কুল থেকে পাশ করা ছাত্ররা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত। কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার আবার কেউ সফল ব্যবসায়ী। প্রধান শিক্ষক বিশ্বরূপ ঘোষ বলেন, “যাঁরা এই স্বপ্নের আলো দেখিয়েছিলেন, সেই সব শিক্ষানুরাগীদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। আজ আমাদের গর্বের দিন।”

রবিবার পর্যন্ত চলবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণা। একশো বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় ঘোড়ানাশ হাইস্কুল প্রমাণ করে দিল—প্রতিষ্ঠান কেবল ইটের পাঁজর নয়, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জুড়ে রাখার এক পরম আবেগ।