ভোটার লিস্টে বড়সড় কোপ! বাদ পড়তে পারেন লক্ষ লক্ষ মতুয়া? সীমান্ত ঘেঁষা জেলাগুলোতে চরম আতঙ্ক!

ভোটার তালিকায় বিশেষ পরিমার্জন বা এসআইআর (SIR)-এর খসড়া তালিকা প্রকাশ পেতেই ঘুম উড়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদীয়া জেলার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোর। তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ‘আনম্যাপড’ (Unmapped) বা চিহ্নিতকরণহীন অবস্থায় থাকায় তাঁদের ভোটাধিকার এবং নাগরিকত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই অনিশ্চয়তার মুখে পড়া মানুষের সিংহভাগই মতুয়া সম্প্রদায়ের।
কেন এই আতঙ্ক? কী এই ‘আনম্যাপড’ সমস্যা? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এবারের ভোটার তালিকা যাচাইয়ের জন্য ২০০২ সালকে ভিত্তি (Benchmark) হিসেবে ধরা হয়েছে। বর্তমান তালিকায় যাঁদের নাম ‘আনম্যাপড’ দেখাচ্ছে, তার অর্থ হলো— ২০০২ সালের তালিকায় তাঁদের বা তাঁদের বাবা-মায়ের নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে পারিবারিক যোগসূত্র বা ‘লিঙ্কেজ’ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, শুনানির সময় কি তাঁদের ১৯৫০ বা ১৯৭১ সালের আগের নথি দেখাতে হবে? এই ধোঁয়াশাতেই বাড়ছে উদ্বেগ।
পরিসংখ্যান দিচ্ছে বিপদের সংকেত: তথ্য বলছে, মতুয়া ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতে ‘আনম্যাপড’ ভোটারের হার রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো:
গাইঘাটা: ১৪.৫%
হাবড়া: ১৩.৬%
বাগদা: ১২.৭%
বনগাঁ উত্তর: ১১.৩%
কল্যাণী ও রানাঘাট: ১১ শতাংশের বেশি।
বিজেপি বনাম তৃণমূল: তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
বিজেপির তোপ: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত সিএএ (CAA) শংসাপত্র দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কথায় বিশ্বাস করে যাঁরা সিএএ ফর্ম ভরেননি, তাঁদের নাম বাদ গেলে দায় কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন?”
তৃণমূলের পাল্টা: তৃণমূল সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা ‘নিঃশর্ত নাগরিকত্ব’ চান এবং মতুয়াদের কোনো ধরণের হয়রানি বরদাস্ত করবেন না। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কটাক্ষ, “যাঁরা ভোট দিয়ে বিজেপিকে জেতালেন, বিজেপি আজ তাঁদেরই বিপদে ফেলছে।”
অন্ধকারে হাজার হাজার পরিবার রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মতুয়া ভোটার রয়েছেন, যাঁরা অন্তত ২১টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করেন। সিএএ নিয়ে টালবাহানা আর ভোটার তালিকার এই জটিল আইনি প্যাঁচে পড়ে এখন নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষা করাই মতুয়া সমাজের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবার নজর কমিশনের শুনানির দিকে।