‘আমাদের মাটি নিয়ে ছিনিমিনি সইব না’, বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন ও বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে জ্বলল ত্রিপুরা!

বাংলাদেশে চলা দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। ওপার বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উত্তর-পূর্ব ভারতকে নিয়ে বাংলাদেশি নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠল ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা। বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাল যুব টিপরা ফেডারেশন (YTF), যারা রাজ্যের প্রভাবশালী দল ‘টিপরা মোথা’-র যুব শাখা।
বিক্ষোভের মূল কারণ কী? আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সে দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার হামলা চলছে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক নেতা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে নিয়ে যে ধরণের প্ররোচনামূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করছেন, তা ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি।
‘দেশ ও মাটির সুরক্ষায় আমরা আপসহীন’ বিক্ষোভস্থলে দাঁড়িয়ে যুব টিপরা ফেডারেশনের সভাপতি সুরজ দেববর্মা কড়া ভাষায় বলেন,
“গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের কিছু নেতা উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে যে ধরণের মন্তব্য করছেন, তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এ দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক। আমাদের মাটি এবং মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা করতে আমরা জানি। ভারতের অখণ্ডতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে আমরা চুপ থাকব না।”
নিরাপত্তার চাদরে হাই কমিশন বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শুক্রবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় ত্রিপুরা পুলিশ। যদিও বিক্ষোভ কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ছিল। আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল হাই কমিশনের কাছে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার আবেদন জানায়। একইসঙ্গে ভারত সরকারের কাছেও তাঁরা আর্জি জানিয়েছেন যাতে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক স্তরে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক তাৎপর্য রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিপরা মোথার এই প্রতিবাদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে চলা অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ইস্যু এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ত্রিপুরার আদিবাসী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে। এই প্রতিবাদ যেন সেই সঞ্চিত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।
দিল্লির কূটনৈতিক মহলের মতে, পদ্মাপারের আগুনের আঁচ যাতে ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তি বিঘ্নিত না করে, সেদিকে কেন্দ্রকে এবার আরও সতর্ক হতে হবে। আগরতলার এই প্রতিবাদ সেই সতর্কবার্তাই যেন আরও জোরালো করে তুলল।