রাতের অন্ধকারে ছৌ-এর মহড়া! পুরুলিয়ার ঐতিহ্য বাঁচাতে গ্রামীন যুবকদের ‘ওয়ার্কশপ’, নতুন রূপে ফিরছে লোকসংস্কৃতি

ঢল-মাদলের গুরুগম্ভীর আওয়াজ আর বীররসের সেই চনমনে শারীরিক কসরত—পুরুলিয়ার প্রাণের স্পন্দন ‘ছৌ’ নৃত্য কি আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাবে? এই প্রশ্ন যখন লোকসংস্কৃতি প্রেমীদের ভাবিয়ে তুলছে, ঠিক তখনই কাশিপুর বিধানসভার অন্তর্গত পালগা গ্রামে দেখা গেল এক আশার ছবি। গ্রামের প্রাচীন লোকসংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের মনে এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ জন্মাতে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির।
রাতের আঁধারে সংস্কৃতির আলো: বর্তমানে পালগা গ্রামে প্রতি রাতে নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণের আসর বসছে। পালগা কৃষ্ণ কালী ছৌ নৃত্য সমিতির অভিজ্ঞ শিল্পীদের তত্ত্বাবধানে গ্রামের প্রায় ৩০ জন যুবক এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছেন। সেখানে ছৌ নৃত্যের বিভিন্ন জটিল কৌশল, মুদ্রা এবং ঐতিহ্যবাহী ভঙ্গিমা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রপ্ত করছেন এই হবু শিল্পীরা।
কেন এই উদ্যোগ? উদ্যোক্তাদের মতে, এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য দুটি: ১. পুরুলিয়ার এই গৌরবময় প্রাচীন শিল্পকে সংরক্ষণ করা। ২. নতুন প্রজন্মের যুবকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের শেকড়ের সংস্কৃতির প্রতি উৎসাহিত করা।
কী বলছেন প্রশিক্ষণার্থীরা? প্রশিক্ষণরত এক যুবকের কথায়, “ছৌ নৃত্য আমাদের রক্তে। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই ঐতিহ্য যেন আমাদের হাতে এসে হারিয়ে না যায়, সেই লক্ষ্যেই আমরা এই প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। আমরা চাই এই শিল্পকে সারাবিশ্বের সামনে আরও গর্বের সাথে তুলে ধরতে।”
অভিজ্ঞ শিল্পীরা মনে করছেন, যুবসমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে আধুনিকতার যুগেও মানুষ নিজেদের মাটির টান ভুলে যায়নি। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমেই পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতি নতুন প্রাণ পাচ্ছে এবং লোকশিল্পের এই ধারা আগামী প্রজন্মের হাত ধরে আরও সমৃদ্ধ হবে।