মেসি-উন্মাদনা না কি গুন্ডামি? যুবভারতী ভাঙচুরে আরও ৩ গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ‘দুষ্টু’দের জালে তুলল পুলিশ

বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির সফরকে ঘিরে গত শনিবার যে বেনজির বিশৃঙ্খলা প্রত্যক্ষ করেছিল তিলোত্তমা, তার রেশ কাটছেই না। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চেয়ার ভাঙা থেকে শুরু করে গোলপোস্ট উপড়ে ফেলা— উন্মাদনার নামে যারা তাণ্ডব চালিয়েছিল, তাদের খুঁজতে এবার আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে বিধাননগর পুলিশ। এই ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের জাল আরও চওড়া: পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম রাজু দাস ওরফে গোপাল দাস, সৌম্যদীপ দাস ওরফে পাপ্পু এবং তন্ময় দে ওরফে দুষ্টু। লেকটাউন এবং নাগেরবাজার এলাকা থেকে এদের জালে তোলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও খতিয়ে দেখে এদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯।
ভাঙচুর নয়, লুটপাটের অভিযোগ: তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT)-এর হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, শুধুমাত্র সম্পত্তি নষ্ট নয়, অনেকে যুবভারতীর বহুমূল্য সরঞ্জাম হাতে করে বাড়িতেও নিয়ে গিয়েছেন। গোলপোস্টের জাল ছেঁড়া থেকে শুরু করে ভিআইপি বক্সের সরঞ্জাম— কিছুই বাদ পড়েনি। সূত্রের খবর, যারা এই ধরনের ‘লুটপাটে’ যুক্ত ছিলেন, তাঁদেরও শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
পুলিশি তৎপরতা: বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট জানিয়েছে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন একটি জাতীয় সম্পত্তি। এই সম্পদ যারা নষ্ট করেছে, তাদের জেরা করে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলে পুলিশ আশাবাদী। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি অভিযুক্তদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মেসির সফরের মতো একটি আন্তর্জাতিক মাপের ইভেন্টে দর্শকদের এমন নেতিবাচক আচরণ বাংলার ফুটবল সংস্কৃতির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। প্রশাসন এখন কড়া আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই কলঙ্ক মোছাতে সচেষ্ট।