দেওয়াল জুড়ে জীবন্ত ইতিহাস! খেজুরির এক গৃহশিক্ষকের বাড়িতেই তৈরি হলো খবরের কাগজের আস্ত মিউজিয়াম

সংবাদপত্র আমরা সকালে পড়ি এবং পরের দিন তা ডাস্টবিনে ফেলে দিই কিংবা ঠোঙা তৈরির কাজে ব্যবহার করি। কিন্তু সেই ‘তুচ্ছ’ খবরের কাগজই যে ইতিহাসের এক একটি জ্বলন্ত অধ্যায় হতে পারে, তা হাতে-কলমে করে দেখালেন পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির বাসিন্দা মধুসূদন জানা। পেশায় গৃহশিক্ষক হলেও নেশায় তিনি একজন কট্টর সংবাদপত্র সংগ্রাহক। গত ১২ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন একটি নিউজপেপার মিউজিয়াম, যার নাম দিয়েছেন “অমূল্য সম্পদে ভরা খবরের কাগজ”।
সংগ্রহে কী কী রয়েছে? মধুসূদন বাবুর এই মিউজিয়ামে ঠাঁই পেয়েছে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছরের পুরনো সংবাদপত্র। তাঁর সংগ্রহশালায় রয়েছে:
১৯৫০ সালের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের খবর।
জওহরলাল নেহরুর প্রথম পতাকা উত্তোলনের ছবি ও সংবাদ।
মহাত্মা গান্ধীর শেষ অনশন ও অসহযোগ আন্দোলনের বৈঠকের বিবরণ।
কলকাতায় প্রথম ট্রাম চলাচলের সেই ঐতিহাসিক দিনের রিপোর্ট।
মোট ১০টি ভিন্ন ভাষায় ১২১ রকমের পত্র-পত্রিকা।
কেন এই উদ্যোগ? মধুসূদন বাবুর লক্ষ্য হলো বর্তমান প্রজন্মের কাছে সংবাদপত্রের গুরুত্ব পৌঁছে দেওয়া। তিনি মনে করেন, একজন সাংবাদিক বহু পরিশ্রম করে খবরের সত্যতা যাচাই করেন। সেই শ্রম এবং ইতিহাসের সত্যকে ডাস্টবিনে যেতে না দিয়ে সংরক্ষণ করা জরুরি। তাঁর মিউজিয়ামটি দেখলে মনে হয় দেওয়াল নয়, যেন ইতিহাসের পাতাগুলি একে একে উন্মোচিত হচ্ছে।
শিক্ষাই সংস্কৃতির মেরুদণ্ড: খেজুরির এই গৃহশিক্ষক তাঁর এই ‘মিউজিয়াম’-এর মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরছেন যে, শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম মেরুদণ্ড হলো সংবাদপত্র। কেবল তথ্য সংগ্রহ নয়, সংবাদপত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের সম্মান ফেরানোই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। দিঘা বা মন্দারমণি ভ্রমণের পথে এখন অনেকেই একবার ঢুঁ মারছেন খেজুরির এই “নিউজ পেপার মিউজিয়াম”-এ।