জুবিন গর্গ মৃত্যু মামলায় বড় টুইস্ট! খুনের তত্ত্ব ওড়াল সিঙ্গাপুর পুলিশ, তবে কি ভুল পথে এগোচ্ছে SIT?

জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গের অকাল মৃত্যু নিয়ে ভারত ও সিঙ্গাপুরের তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যে এক অভূতপূর্ব মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। জুবিনের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যখন উত্তাল অসম, তখন শুক্রবার সিঙ্গাপুর পুলিশ ফোর্স (SPF) এক বিবৃতি জারি করে জানাল, তাদের তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনও রহস্য বা খুনের ইঙ্গিত মেলেনি।

সিঙ্গাপুর পুলিশের বক্তব্য: সিঙ্গাপুর পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভারতীয় মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যে খুনের জল্পনা চলছে, সে বিষয়ে তারা অবগত। তবে তাদের তদন্ত অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিঙ্গাপুরের আইন (Coroners Act, 2010) অনুযায়ী পুরো ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট স্টেট করোনারের কাছে জমা দেওয়া হবে। আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বিশেষ শুনানি বা ‘করোনার্স ইনকোয়ারি’ (CI) অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চূড়ান্তভাবে জানানো হবে জুবিনের মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি কী ছিল।

অসম পুলিশের SIT-এর চাঞ্চল্যকর চার্জশিট: সিঙ্গাপুর পুলিশ ষড়যন্ত্র অস্বীকার করলেও, অসম পুলিশের গঠিত SIT কিন্তু অন্য পথে হাঁটছে। গত ১২ ডিসেম্বর গুয়াহাটি আদালতে প্রায় ২,৫০০ পাতার মূল চার্জশিট জমা দিয়েছে তারা। সেখানে জুবিনের চারজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী— ইভেন্ট অর্গানাইজার শ্যামকানু মহন্ত, ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ব্যান্ডমেট শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং সহ-শিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্তের বিরুদ্ধে BNS-এর ১০৩ ধারায় (খুন) অভিযোগ আনা হয়েছে। মোট ৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সিআইডি (CID)।

এখন কী হবে? অসমের বিশেষ দল ইতিমধ্যেই ৩০০ জনের বেশি মানুষের বয়ান রেকর্ড করেছে এবং সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। ২২ ডিসেম্বর গুয়াহাটি আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর পুলিশের দাবি, তারা পেশাদারিত্বের সাথে তদন্ত চালাচ্ছে এবং জনগণকে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ করেছে।

দুই দেশের দুই ভিন্ন তদন্ত রিপোর্ট এখন জুবিন অনুরাগীদের মনে গভীর বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। ভারতের আদালতে খুনের মামলা চললেও, সিঙ্গাপুরের ‘করোনার ইনকোয়ারি’র রিপোর্ট এই মামলার গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।