“আদানীর সম্পত্তিতে আগুন পড়েনি কেন?” বাংলাদেশ ইস্যুতে মোদী সরকারকে বিঁধে বিস্ফোরক গর্গ চট্টোপাধ্যায়

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু বাঙালিদের ওপর চলা লাগাতার নির্যাতন এবং ভারতে আশ্রয়প্রার্থী বাঙালিদের অবস্থা নিয়ে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশে জামাতি সন্ত্রাসবাদীদের হাতে হিন্দুরা প্রাণ দিচ্ছে, আর প্রাণ বাঁচাতে যারা এপারে আসছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে তাঁদের ওপর চালানো হচ্ছে ‘রাষ্ট্রীয় অত্যাচার’।
আদানী প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য: গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জামাতি দাঙ্গাবাজরা মোদীর প্রিয় গুজরাটি শিল্পপতি আদানীর সম্পত্তিতে আগুন দেয়নি, কিন্তু বেছে বেছে হিন্দু বাঙালির ঘর পুড়িয়েছে।” তাঁর দাবি, কেন্দ্র শুধু নিজের পছন্দের শিল্পপতিদের ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখছে, বাঙালির প্রাণের দাম দিচ্ছে না।
বিজেপি শাসিত রাজ্যে নির্যাতনের অভিযোগ: গর্গ অভিযোগ করেন, ওড়িশা থেকে অসম, দিল্লি থেকে মহারাষ্ট্র— সর্বত্র হিন্দু বাঙালিদের ঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে কিংবা তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বাঙালির নাম বাদ দেওয়াকে তিনি “পরিকল্পিতভাবে হিন্দু বাঙালির অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা” বলে অভিহিত করেছেন।
কেন্দ্রের কাছে ৬ দফা দাবির উপেক্ষা: বাংলা পক্ষের পক্ষ থেকে এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ছয়টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছিল, যার একটিও মানা হয়নি বলে গর্গর অভিযোগ:
বাংলাদেশের সাথে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করা।
বাংলাদেশকে দেওয়া প্রায় ১০ হাজার একর ভারতীয় জমি ফেরত নেওয়া।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে স্পষ্ট ‘না’ বলা।
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে ভারতীয় সেনার সহায়তায় ‘নিরাপদ বলয়’ (Safe Zone) তৈরি করা।
ভারতের বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশে পণ্য পাঠানো বন্ধ করা।
নদীয়া জেলার ১৬০ একর জমি ফেরত নেওয়া।
বাঙালির একাকী লড়াই: গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, আজ পূর্ববঙ্গের হিন্দু বাঙালির পাশে ভারত সরকার বা বিশ্বের কোনও শক্তি নেই। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরাই তাদের শেষ আশ্রয়। এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে দিল্লি ও ঢাকা— দুই শক্তিকেন্দ্রের বিরুদ্ধেই বাঙালিকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদ বনাম বাঙালি জাতীয়তাবাদের এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।