ভোটার তালিকার শুনানিতে এবার দিল্লির নজর! কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ নিয়োগ করল কমিশন

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার সকালে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যে, ভোটার তালিকার আসন্ন শুনানি বা হিয়ারিং পর্বের সরাসরি নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকরা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের অধীনে এঁরা ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ হিসেবে কাজ করবেন।
কারা হবেন মাইক্রো অবজার্ভার? কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রুপ ‘বি’ বা তার ঊর্ধ্বর আধিকারিকদের এই কাজে নিয়োগ করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (PSUs)-এর আধিকারিকরাও এই নজরদারির দায়িত্ব পাবেন।
কাজের পরিধি ও সাম্মানিক: এই মাইক্রো অবজার্ভারদের মূল কাজ হবে শুনানি পর্বে নির্বাচনি আধিকারিক (ERO) ও সহকারী নির্বাচনি আধিকারিকদের (AERO) কাজের ওপর কড়া নজর রাখা। তারা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তদারকি করবেন:
ভোটারদের জমা দেওয়া নথিপত্র যাচাই।
ভোটার তালিকার অসঙ্গতি চিহ্নিত করা ও পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ।
শুনানিতে আসা ভোটারের তথ্য সঠিক কি না তা দেখা।
সমগ্র প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা।
এই কাজের জন্য প্রতিটি মাইক্রো অবজার্ভারকে ৩০ হাজার টাকা করে এককালীন সাম্মানিক দেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
কেন এই কড়াকড়ি? সম্প্রতি প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম কাটা যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএলও (BLO)-রা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম মানছেন না। তাই শুনানি পর্বে যাতে কোনও পক্ষপাত বা ভুল না হয়, তা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের ময়দানে নামানো হচ্ছে।
পিছিয়ে গেল শুনানি: প্রাথমিকভাবে ১৬ তারিখ খসড়া তালিকা প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার থেকেই শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষক নিয়োগের কারণে তা কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, শুক্রবার থেকে ভোটারদের কাছে শুনানির নোটিশ পাঠানো শুরু হবে।