নির্বাসিত মোহনবাগান, খেলতে না যাওয়ায় কড়া শাস্তির মুখে এবার সবুজ মেরুন দল

আশঙ্কা ছিলই, এবার তাতে পড়ল শিলমোহর। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) থেকে বড়সড় শাস্তির কবলে পড়ল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। নিরাপত্তা ইস্যুতে ইরান সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের জেরে শতাব্দী প্রাচীন এই ক্লাবকে আগামী ২ বছরের জন্য নির্বাসিত করল এশিয়ান ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। একইসঙ্গে ক্লাবের ওপর চাপানো হয়েছে বিশাল আর্থিক জরিমানাও।

কেন এই কঠোর শাস্তি? গত সেপ্টেম্বর মাসে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর ম্যাচে ইরানের ক্লাব ‘সেপাহান’-এর মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল মোহনবাগানের। কিন্তু তৎকালীন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় ইরানে দল পাঠাতে অস্বীকার করে বাগান কর্তৃপক্ষ। ফুটবলাররাও সেই সময় ইরান যেতে রাজি ছিলেন না। এই সিদ্ধান্তের জেরেই মোহনবাগানকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার এএফসি-র শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি চূড়ান্ত রায় দিয়ে জানিয়ে দিল, আগামী ২০২৭-২৮ মরশুম পর্যন্ত কোনও এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

জরিমানার অংক: শুধুমাত্র নির্বাসনই নয়, মোহনবাগানকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। এএফসি-র নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যেই এই জরিমানার টাকা জমা দিতে হবে ক্লাবকে।

মুশকিলে বাগান সমর্থকরা: যোগ্যতা অর্জন করা সত্ত্বেও আগামী দুই মরশুম মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে প্রিয় ক্লাবকে খেলতে না দেখার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা উগরে দিয়েছেন বাগান সমর্থকরা। ক্লাবের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল যে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সবার আগে। তবে এএফসি সেই যুক্তি মানতে নারাজ।

ভবিষ্যৎ কী? ১৭ ডিসেম্বরের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর ফলে আইএসএল-এ ভালো পারফর্ম করলেও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ হাতছাড়া হলো কলকাতার এই প্রধানের। এখন দেখার, এই শাস্তির বিরুদ্ধে মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ উচ্চতর কোনো আদালতে বা এএফসি-র কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় কি না।