‘বদলা’ নিতে ভারতীয় চাষিকে অপহরণ! বাংলাদেশ সীমান্ত পার করে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ!

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে ফের উঠে গেল বড় প্রশ্নচিহ্ন। সীমান্তে চোরাচালান এবং বেআইনি অনুপ্রবেশ ঠেকানোর ‘বদলা’ নিতে এক ভারতীয় চা চাষিকে অপহরণ করে জোর করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের সীমান্ত লাগোয়া কুকুরজান ও চাউলহাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সীমান্তের অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কারণেই এবার সাধারণ মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সীমান্তে?

৩৫ বছরের ওই ভারতীয় চা চাষির নাম দীপঙ্কর গোপ। তিনি চাউলহাটি সীমান্ত এলাকার তসর পাড়ার বাসিন্দা এবং নিজের প্রায় ছয় বিঘা চা বাগানে চাষের কাজ করেন। পরিবারের দাবি, শনিবার (৮ই আগস্ট) সকালে প্রতিদিনের মতোই তিনি নিজের বাগানে কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়েছিলেন। বাগানটি সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে কাজ করার সময় তাঁকে একাই থাকতে হয়।

সেই সুযোগেই বাংলাদেশের দিক থেকে একদল দুষ্কৃতী সীমান্ত পেরিয়ে এলাকায় ঢুকে তাঁকে ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। দীপঙ্করকে জোর করে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সংখ্যায় দুষ্কৃতীরা বেশি থাকায় তাঁকে আটকানো সম্ভব হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

আগের ঘটনার সঙ্গে যোগ? কী বলছে পরিবার?

পরিবারের দাবি, গত ৬ আগস্ট চাউলহাটি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন এক বাংলাদেশি নাগরিক। বিএসএফের জওয়ানরা তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ওই ব্যক্তি সীমান্তপারের চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেই ধারণা। তাঁর গ্রেফতারের পর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ে। পরিবারের জোরালো সন্দেহ, সেই ঘটনার ‘বদলা’ নিতেই দীপঙ্করকে টার্গেট করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দীপঙ্করকে বলতে শোনা যাচ্ছে—ওই বাংলাদেশি নাগরিককে ছেড়ে দেওয়া হলে তাঁকেও ছেড়ে দেওয়া হবে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম।

বিএসএফ-বিজিবি ফ্ল্যাগ মিটিং ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসন ও বিএসএফকে খবর দেন। জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও তার আগেই দীপঙ্করকে ওপারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাঁকে উদ্ধারের জন্য বিএসএফের তরফে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা হয় এবং দুই বাহিনীর মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিংও হয়। বর্তমানে তিনি বিজিবির হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গেলেও কী পরিস্থিতিতে তাঁকে আটক রাখা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সীমান্তের সাধারণ মানুষের বক্তব্য, কাঁটাতারের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের জীবিকা সম্পূর্ণভাবেই সীমান্তের এলাকার উপর নির্ভরশীল। এই ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়াতে এবং অপহৃত চাষিকে দ্রুত ও সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন সব মহলের নজর বিএসএফ এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *