ভোটার তালিকা থেকে উধাও ৫৮ লাখ নাম! ‘এসআইআর’-এর ভয়ে খালি হচ্ছে কলোনি? বিষ্ফোরক দিলীপ ঘোষ।

পঞ্চায়েত ও বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড। প্রকাশিত খসড়া তালিকা দেখে কার্যত ‘চোখ কপালে’ ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের। দেখা যাচ্ছে, রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রায় ৫৮ লাখ মানুষ! শুধু তাই নয়, ত্রুটি সংশোধন ও যাচাইয়ের জন্য প্রায় দেড় কোটি মানুষকে হিয়ারিং বা শুনানিতে ডাকা হতে পারে বলে নবান্ন ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।
তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি তুঙ্গে
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসছে, কোথাও ভোটার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, আবার কোথাও বহু পুরনো ভোটারের নাম রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। এই গণ-ছাঁটাই নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তখনই বিতর্কিত এসআইআর (SIR) বা ‘নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
দিলীপ ঘোষের কড়া দাওয়াই
ভোটার তালিকা থেকে এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ সাফ জানান, এই প্রক্রিয়া আসলে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার একটি ধাপ। তাঁর দাবি:
জেনুইন ভোটাররাই সুরক্ষিত: যাদের কাছে বৈধ নথিপত্র আছে, তাদের চিন্তার কারণ নেই। সঠিক যাচাইয়ের পর তাদের নাম তালিকায় উঠবেই।
অনুপ্রবেশকারীদের বিদায়: যারা অন্য দেশ (মূলত বাংলাদেশ) থেকে অবৈধভাবে এসে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন, তাদের নাম ছেঁটে ফেলা হচ্ছে।
কলোনিতে আতঙ্ক: দিলীপের দাবি, এসআইআর বা বিশেষ তদন্তকারী রিপোর্টের ভয়ে অনেক ভুয়ো ভোটার ইতিমধ্যেই এলাকা ও কলোনি ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন।
হিয়ারিংয়ের গেরোয় কোটি কোটি মানুষ!
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ১.৫ কোটি মানুষকে নথিপত্র নিয়ে শুনানিতে হাজিরা দিতে হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এই কড়াকড়ি সবচেয়ে বেশি। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেকের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যদিও প্রশাসনের দাবি— এটি একটি রুটিন স্ক্রুটিনি।
এখন দেখার, এই বিশাল সংখ্যক বাদ পড়া ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী হয় এবং হিয়ারিংয়ের পর তালিকায় কতজনের নাম ফিরে আসে।