‘মারার চক্রান্ত’,-মমতার গাড়িতে ইট-জুতো বৃষ্টির ঘটনায় ফুঁসে উঠলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী!

মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চরম উত্তেজনার মুখে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দুপুরে হালিশহরে প্রয়াত তৃণমূল কর্মী বীরজু কেওটের বাড়িতে যান তিনি। সেখান থেকে বেরনোর সময় তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে পাথর, কাদা এবং জুতো ছোড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ ও ‘ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা।
পুলিশকে সরাসরি দোষ না দিলেও ক্ষোভ স্পষ্ট
হালিশহরে নিজের গাড়িতে হামলার অভিযোগ তুললেও মমতার গলায় সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ শোনা যায়নি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পুলিশকে আমি দোষ দিই না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তো অরাজকতা সৃষ্টি করছেন।”
মমতার অভিযোগ, পুলিশি নিরাপত্তার বেড়াজালের মধ্যেই একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উপর প্রকাশ্য রাস্তায় হামলার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের গাড়িতে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে। কাস্টডিয়াল ডেথ হচ্ছে। বাংলা লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। পুলিশের সামনে আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করছে লুম্পেনরা।”
কেন হালিশহরে গিয়েছিলেন মমতা?
গত শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয় তৃণমূল কর্মী বীরজু কেওটের। বীরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে বীরজুকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় বলে দাবি পরিবারের। বীরজুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ ছিল বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, পুলিশের দাবি— তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগে বীরজুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নিয়ম মেনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁকে আদালতে তোলা হলে আদালত ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। হেফাজতে থাকাকালীন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
গলি দিয়ে হেঁটে বেরোতে হয় মমতাকে
রবিবার দুপুর দুটো নাগাদ হালিশহরে বীরজুর বাড়িতে পৌঁছন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বেরোনোর সময় বাইরে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতির জেরে মমতাকে কিছুটা পথ হেঁটে মূল রাস্তায় আসতে হয়। সেই সময়ই পুলিশি ঘেরাটোপ ভেঙে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, জুতো ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।
‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’, ডিজি ও কমিশনারের পদত্যাগ দাবি কল্যাণের
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মমতার সঙ্গে থাকা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এটিকে ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশের চোখের সামনে এত বড় ঘটনা ঘটার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। গোটা ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন ও রাজনীতির পারদ এখন চড়চড় করে চড়তে শুরু করেছে।