“বাবার ব্যাপারটা সামলে নিয়েছি!” হাতুড়ি দিয়ে বাবাকে পিটিয়ে খুন ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবকের, কারণ শুনে কাঁপছে আমেরিকা।

উৎসবের মরসুমেই উৎসবের রঙ বদলে গেল রক্তে। থ্যাঙ্কসগিভিং-এর ছুটিতে যখন গোটা আমেরিকা মেতে, ঠিক তখনই ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের স্কামবার্গে ঘটল এক বীভৎস হত্যাকাণ্ড। নিজের জন্মদাতা পিতাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ২৮ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক অভিজিৎ প্যাটেলের বিরুদ্ধে। ধৃত যুবকের দাবি, এটি ছিল তার ‘ধর্মীয় কর্তব্য’!
ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত সকালে?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৯ নভেম্বর ভোরে অভিজিতের মা কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে একা ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী অনুপম প্যাটেল ও তাঁর ছেলে অভিজিৎ। ডায়াবেটিস আক্রান্ত অনুপমের শরীরের গ্লুকোজ লেভেল মোবাইলে ট্র্যাক করতেন তাঁর স্ত্রী। সেদিন সকালে বারবার ফোন করেও স্বামীর সাড়া না পেয়ে এবং গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিক দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।
বাড়ি ফিরতেই তাঁর সামনে এসে দাঁড়ায় ছেলে অভিজিৎ। নির্লিপ্ত গলায় সে মাকে বলে, “বাবার ব্যাপারটা আমি সামলে নিয়েছি, গিয়ে দেখে নাও।” শোবার ঘরে ঢুকে মা দেখেন, রক্তে ভেসে যাচ্ছে বিছানা। পড়ে আছে স্বামীর নিথর দেহ।
খুনের নৃশংসতা ও পুলিশের তদন্ত
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি রক্তমাখা হাতুড়ি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, অনুপম প্যাটেলের মাথায় অন্তত দু’বার হাতুড়ি দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে তাঁর খুলি ও নাক ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
‘ধর্মীয় কর্তব্য’ নাকি মানসিক বিভ্রম?
গ্রেফতারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিজিৎ যে বয়ান দিয়েছে, তাতে হতবাক তদন্তকারীরাও। সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ওই যুবকের দাবি— শৈশবে বাবার হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল সে (যদিও চিকিৎসকরা একে ‘ভ্রান্ত ধারণা’ বলছেন)। আর সেই কারণেই বাবাকে হত্যা করাকে নিজের ‘ধর্মীয় কর্তব্য’ বলে মনে করেছে সে।
আদালতের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: অনুপম প্যাটেলের নিরাপত্তার খাতিরে ছেলের বিরুদ্ধে ২০২৭ সাল পর্যন্ত একটি ‘সুরক্ষা আদেশ’ বা প্রোটেকশন অর্ডার জারি ছিল। তা সত্ত্বেও মা-বাবা দয়া করে ছেলেকে নিজেদের কাছেই থাকতে দিয়েছিলেন। সেই দয়ার প্রতিদান হিসেবেই জুটল হাতুড়ির ঘা।
বর্তমানে জামিন ছাড়াই জেল হেফাজতে রয়েছে অভিজিৎ। আদালত তার মায়ের সঙ্গেও তার যোগাযোগ নিষিদ্ধ করেছে। আগামী ১৯ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। মার্কিন মুলুকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবকের এই নৃশংসতা এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে।