শিক্ষা হয়নি লস্করের, PoK-তে ফের মসজিদের আড়ালে জঙ্গি সেন্টার গড়ছে

ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ চূড়ান্ত অপদস্থ হওয়ার পরও শিক্ষা নেয়নি লস্কর-ই-তৈবা (LeT)। বরং নতুন ছক কষে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POk) এবার ধর্মীয় স্থানের আড়ালে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালাচ্ছে এই জঙ্গি গোষ্ঠী। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কড়া নজরে এসেছে লস্করের নতুন গতিবিধি।

মসজিদের পাশে ‘তামিয়া’ ও ‘মারকাজ’: জানা গিয়েছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নীলম জেলার শারদা এলাকায় লস্কর-ই-তৈবা একটি নতুন সেন্টার তৈরি করছে। স্থানীয় জামিয়া মসজিদের আড়ালে নির্মিত এই সেন্টারটিকে ‘তামিয়া’ এবং ‘মার্কাজ’ বলা হচ্ছে। অর্থাৎ, এই কেন্দ্রটিকে ধর্মীয় এবং সন্ত্রাসবাদী, উভয় কার্যকলাপের জন্যই ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে লস্করের।

ইন্টালিজেন্স এজেন্সিগুলি এই সেন্টার এবং লস্কর-ই-তৈবার গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছে। সূত্রের খবর, POk-তে একটি নয়, মোট চারটি ভিন্ন অঞ্চলে পৃথক পৃথক সেন্টার নির্মাণ করতে চলেছে এই জঙ্গি গোষ্ঠী। এই এলাকাগুলি হল:

  • বাগ এলাকার ধীরকোট

  • রাওয়ালকোটের খাইগালা

  • সুধানোটির পালান্দ্রি

  • নীলম ভ্যালির শারদা

লস্কর নেতার গতিবিধি: লস্কর-ই-তৈবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ডেপুটি রিজওয়ান হানিফকে সম্প্রতি নীলম ভ্যালিতে দেখা গিয়েছে। সে নিজে মসজিদের আড়ালে তৈরি হওয়া সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের এই নতুন কেন্দ্রটি পর্যবেক্ষণ করেছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবার বাড়তে থাকা এই কার্যকলাপ নিরাপত্তা মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

POk-র স্থানীয়দের প্রতিরোধ: এদিকে, POk-তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে। কুইয়ান গ্রামের মানুষরা লস্কর-ই-তৈবার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। গ্রামবাসীদের রোষের মুখে পড়ে শেষমেশ সশস্ত্র দলবল নিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন লস্কর কমান্ডার রিজওয়ান হানিফ। একদিকে ভারতীয় সেনার কড়া নজরদারি, অন্যদিকে স্থানীয়দের ক্রমাগত বিরোধিতা— দুই দিক থেকে চাপের মুখে লস্কর-ই-তৈবা।