‘আমরা অত বোকা নই গোদিভাই!’ অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধোনা মমতার, ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি!

মুর্শিদাবাদের জনসভা থেকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র বিরুদ্ধে এসআইআর (SIR) নিয়ে ‘ধর্মীয় রাজনীতি’ করার গুরুতর অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বহরমপুর স্টেডিয়ামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এনআরসি চালুর প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এসআইআর-এর অপব্যবহার নিয়ে তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “এসআইআর সম্পর্কিত ঘটনায় যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের অর্ধেকেরও বেশি হিন্দু ছিলেন। আপনি (বিজেপি) যে ডালে বসে আছেন, সেই ডালটিও কেটে ফেলবেন না।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু না করতে দিলেই ভোটের আগে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার ‘গভীর ছক’ ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। “এসআইআর যদি না করতে দিতাম, তা হলে ভোট না করে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করত। বুঝেছেন অমিত শাহের চালাকি? আমরা অত বোকা নই বাবুমশাই, গোদিভাই! আমরা করব, লড়ব। জিতে দেখাব,” কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন মমতা।

রোহিঙ্গা ইস্যুতেও তিনি কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলায় কোনো রোহিঙ্গা নেই। তাঁর প্রশ্ন, বিজেপি শাসিত রাজ্য অসম ও ত্রিপুরা বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নিলেও কেন সেখানে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হয়নি? তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “বর্ডার কার হাতে? তোমার হাতে। বিএসএফ, সিআইএসএফ… সব কার হাতে? তোমার হাতে। শুধু দোষ দিলে হবে?”

মমতা এদিন আবারও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমার গলা কেটে দিলেও এখানে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না আর কাউকে তাড়াব না।” দেশভাগের পর ওপার বাংলা থেকে আসা ছিন্নমূল মানুষদের নাগরিকত্ব নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “তারা কিন্তু ইন্ডিয়ান সিটিজেন। তারা এদেশের নাগরিক। তাই এনআরসি বাংলায় হবে না।” সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আমজনতা নিশ্চিন্তে প্রক্রিয়া শেষ না করা পর্যন্ত তিনি নিজেও ভোটার তালিকায় নাম তোলার কাজ করবেন না। বাংলা ভাষার প্রতি অসম্মান এবং ‘বাংলাদেশি’ দাগিয়ে দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধেও এদিন তিনি সরব হন।