‘তোমার বাবাও ভারত সফর করেছিলেন,’-তারেককে অতীত মনে করলেন শেখ হাসিনা

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সামিটে ভারতের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও কেন সেখানে আসেননি বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্ব, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর এড়ানোকে ‘ছেলেমানুষি সিদ্ধান্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন হাসিনা।
জিয়াউর রহমানের অতীত স্মরণ করিয়ে কড়া বার্তা
পিটিআই-কে দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা সরাসরি নিশানা করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। ৭৮ বছর বয়সী নেত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আমি দিল্লিতে রয়েছি বলে জিয়াউর রহমানপুত্র তারেক রহমান কেন ভারতে আসতে পারবেন না? এই ধরনের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আসল কারণ কী?”
তারেককে তাঁর বাবার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাসিনা বলেন, তারেকের বাবা তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও ১৯৭৯ সালে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থে নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর হাসিনা যখন ভারতেই রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন, সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও জিয়াউর রহমান ভারত সফর থেকে পিছপা হননি।
এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে হাসিনা আরও জানান, “১৯৭৯ সালে তিনি (জিয়াউর রহমান) যখন দিল্লি সফর করেন, আমি তখন দিল্লিতেই ছিলাম। ১৯৮০ সালে তিনি যখন লন্ডন যান, আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আমি সেই শহরগুলিতে থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করেননি।” রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ব্যক্তিগত উপস্থিতি ছাপিয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে যে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
নয়াদিল্লির সম্মেলনে শীর্ষ স্তরে অনুপস্থিতি এবং কূটনৈতিক দূরত্ব
চলতি সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে একাধিক আন্তর্জাতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এর আগে ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও দিল্লি যাননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নয়াদিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধারাবাহিক অনুপস্থিতি ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান সমীকরণ ও ঢাকার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা ও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, বর্তমান ঢাকা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি থেকে ফেরত পাঠানোর বা প্রত্যর্পণের শর্ত চাপানোর কৌশলই নয়াদিল্লির সঙ্গে এই দূরত্ব তৈরির অন্যতম কারণ। তবে হাসিনার স্পষ্ট বার্তা, সংকীর্ণ রাজনৈতিক বিরোধিতার ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় কূটনীতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশেরই দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।