‘আমরা প্রতিযোগিতাকে ভয় পাই না!’ ইলন মাস্কের খোঁচায় বিস্ফোরক জবাব আম্বানির জিও-র

মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিঙ্ক’ (Starlink)-এর ভারতে প্রবেশ কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক। আর সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এবার নিজেদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার করে দিল মুকেশ আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। স্পষ্ট ভাষায় তারা জানিয়ে দিয়েছে, স্টারলিঙ্ক সহ ভারতীয় স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে যেকোনো সুস্থ প্রতিযোগিতাকে তারা স্বাগত জানায়। তবে একই সঙ্গে রিলায়েন্সের বার্তা, ভারতে ব্যবসা করতে হলে যেকোনো বিদেশি সংস্থাকে দেশের আইনি নিয়ম ও নীতি মেনেই চলতে হবে।
সম্প্রতি স্পেসএক্স (SpaceX)-এর সিইও ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নাকি স্টারলিঙ্ক পরিষেবা চালু করতে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি আম্বানি এবং ভারতীয় টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মাস্কের এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) পাল্টা বার্তা দেয় রিলায়েন্স। সংস্থাটি লিখেছে, “আমরা কোনোদিন প্রতিযোগিতাকে ভয় পাইনি। বরং প্রতিযোগিতাকে আমরা গ্রাহকদের সেরা পরিষেবা দেওয়ার চাবিকাঠি ও আসল পরীক্ষা বলে মনে করি।”
নিজেদের টেলিকম ব্যবসা ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’-এর সাফল্য তুলে ধরে রিলায়েন্স স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ২০১৬ সালে যখন তারা ভারতীয় বাজারে পা রেখেছিল, তখন তাদের গ্রাহক সংখ্যা ছিল শূন্য। কিন্তু বিগত ১০ বছরে কঠোর প্রতিযোগিতার পথ পেরিয়ে জিও-র গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ৫৩ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভারতীয়দের হাতে বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা মোবাইল ডেটা এবং উন্নত ডিজিটাল পরিষেবা তুলে দিতে জিও-র ভূমিকা যে অনস্বীকার্য, সে কথাও জোর দিয়ে জানিয়েছে রিলায়েন্স।
আম্বানিকে কটাক্ষ ও রাজনৈতিক জলঘোলা: এর আগে ভারতে প্রয়োজনীয় অনুমতি পেতে বিলম্ব হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ইলন মাস্ক। সরাসরি অভিযোগ তুলেছিলেন একচেটিয়া আধিপত্যের। আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে তিনি পোস্টে লেখেন, “ভারতে তাঁর কোম্পানির সঙ্গে স্টারিলঙ্কের প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেওয়া উচিত।” এমনকি আম্বানিই ভারতের আসল ‘বস’ কি না— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চাঞ্চল্য ছড়ান তিনি। এই বিতর্কে ঘি ঢালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও, যিনি মাস্কের বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
কী জানাচ্ছে কেন্দ্র? ইলন মাস্কের এই বিস্ফোরক অভিযোগ অবশ্য একঝটকায় খারিজ করে দিয়েছে ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্যাটেলাইট যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো একটি বিশেষ সংস্থাকে একচেটিয়া রাজত্ব করতে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, স্টারলিঙ্ক হোক বা অন্য কোনো সংস্থা— ভারতে বাণিজ্যিকভাবে পরিষেবা শুরু করতে গেলে সুরক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় আইনি শর্তাবলী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পূরণ করতেই হবে।