‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এ বাড়বাড়ন্ত! আন্তর্জাতিক জাল ভাঙতে এবার সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

ডিজিটাল প্রতারণা এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর (Digital Arrest) ক্রমবর্ধমান ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই ধরনের অপরাধের শিকড় মায়ানমার, থাইল্যান্ড বা দেশের বাইরেও প্রসারিত বলে পর্যবেক্ষণ করে, সারা দেশে একযোগে তদন্ত চালানোর জন্য সিবিআই-কে (CBI) দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানিয়েছে, “ডিজিটাল অ্যারেস্টের মামলাগুলিতে এককভাবে তদন্ত প্রয়োজন। অপরাধীরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকতে পারে, কিংবা সীমান্তের ওপার থেকেও পরিচালিত হতে পারে। তাই সিবিআই-এর হাতে তদন্ত ছাড়া বিকল্প নেই।”

আদালত আরও জানায়, এই তদন্তের অগ্রগতি তাঁরা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনে নির্দেশ জারি করবেন। প্রয়োজন অনুসারে সিবিআইকে অতিরিক্ত সাইবার বিশেষজ্ঞ ও সম্পদ সরবরাহ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে, হরিয়ানার আম্বালা জেলার এক প্রবীণ দম্পতির মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছে আদালত। ওই দম্পতি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে পড়ে ১৬ দিন ধরে ভয় দেখানো হয়েছিল। প্রতারকরা নকল সুপ্রিম কোর্টের আদেশ এবং তৎকালীন প্রধান বিচারপতির ভুয়ো স্বাক্ষর দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

এই ধরনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেছে, “এই ধরনের ঘটনায় কিছুই করা হচ্ছে না। মানুষ সিস্টেমের উপর বিশ্বাস হারাচ্ছে।” তাই সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন নিজেদের রাজ্যে ঘটে যাওয়া ডিজিটাল প্রতারণার তথ্য আদালতে জমা দেয়।

সিবিআই-এর পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, বহু ঘটনার সূত্র বিদেশে— বিশেষত মায়ানমার ও থাইল্যান্ডে মেলে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করলেও আদালত জানায়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য এবং এই অপরাধ সিস্টেমের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে, তাই এবার কড়া পদক্ষেপ জরুরি।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।